Recent post

রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯

যাকাত কার উপর ফরজ

যাকাত কার উপর ফরজ? যাকাত অস্বীকারকারীর হুকুম কী?
একঃ
আমার এক নিকট আত্নীয় তার জমানো কিছু টাকা আছে, প্রায় 3লাখ টাকা,এখন কি তার উপর যাকাত ফরজ হয়েছে?
দুইঃ
কি পরিমাণ মাল থাকলে যাকাত ফরজ হয়?
তিনঃ
কেও যদি যাকাত ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে তার শরীয়তের বিধান কি?
চারঃ
কেউ যদি যাকাত দিতে অস্বীকার করে তার বিধান কি?
উত্তরঃ
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
যাকাত ফরজ হবার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মালিক হলে বা এর সমমূল্যের অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে ব্যক্তির উপর যাকাত আবশ্যক হয়।
সে হিসেবে যেহেতু তিন লাখ টাকা উক্ত নেসাব পরিমাণ হয়ে যাচ্ছে, আর তা জমানো টাকা, মানে হল প্রয়োজন অতিরিক্ত। তাই উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হয়ে গেছে।
যাকাত ফরজ হবার পর তা আদায় না করলে ফরজ তরক করার গোনাহ হবে।
যাকাত ফরজ হবার পর তা না প্রদান করা মারাত্মক গোনাহের কাজ। বাকি যদি যাকাতকেই অস্বীকার করে বসে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফির। কারণ যাকাত ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। আর ইসলামের কোন মৌলিক স্তম্ভকে অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফির।আর ফরজ মানার পর যদি তা না আদায় করে,তাহলে উক্ত ব্যক্তি ফাসিক বলে গন্য হবে কিন্তু কাফির নয়।
( ﻧِﺼَﺎﺏُ ﺍﻟﺬَّﻫَﺐِ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﻣِﺜْﻘَﺎﻟًﺎ ﻭَﺍﻟْﻔِﻀَّﺔِ ﻣِﺎﺋَﺘَﺎ ﺩِﺭْﻫَﻢٍ ﻛُﻞُّ ﻋَﺸْﺮَﺓِ ‏) ﺩَﺭَﺍﻫِﻢَ ‏( ﻭَﺯْﻥُ ﺳَﺒْﻌَﺔِ ﻣَﺜَﺎﻗِﻴﻞَ ‏) ﺍﻟﺦ ‏( ﺃَﻭْ ‏) ﻓِﻲ ‏( ﻋَﺮْﺽِ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓٍ ﻗِﻴﻤَﺘُﻪُ ﻧِﺼَﺎﺏٌ ‏) ﺍﻟْﺠُﻤْﻠَﺔُ ﺻِﻔَﺔُ ﻋَﺮَﺽٍ ﻭَﻫُﻮَ ﻫُﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻨَﻘْﺪٍ . ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ، ﺑﺎﺏ ﺯﻛﺎﺓ ﺍﻟﻤﺎﻝ 228-224/2- ‏)
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ : ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ ﻭﺍﺟﺒﺔ ﻓﻰ ﻋﺮﻭﺽ ﺍﻟﺘﺠﺎﺭﺓ ﻛﺎﺋﻨﺔ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﺇﺫﺍ ﺑﻠﻐﺖ ﻧﺼﺎﺑﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺭﻕ ﻭﺍﻟﺬﻫﺐ ‏( ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ - 1/179 ‏)
ﻓﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ – ﻭَﻟَﻮْ ﺑَﻠَﻎَ ﺑِﺄَﺣَﺪِﻫِﻤَﺎ ﻧِﺼَﺎﺑًﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺂﺧَﺮِ ﺗَﻌَﻴَّﻦَ ﻣَﺎ ﻳَﺒْﻠُﻎُ ﺑِﻪِ، ﻭَﻟَﻮْ ﺑَﻠَﻎَ ﺑِﺄَﺣَﺪِﻫِﻤَﺎ ﻧِﺼَﺎﺑًﺎ ﻭَﺧُﻤُﺴًﺎ ﻭَﺑِﺎﻟْﺂﺧَﺮِ ﺃَﻗَﻞَّ ﻗَﻮَّﻣَﻪُ ﺑِﺎﻟْﺄَﻧْﻔَﻊِ ﻟِﻠْﻔَﻘِﻴﺮِ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ، ﺑﺎﺏ ﺯﻛﺎﺓ ﺍﻟﻤﺎﻝ - 3/229 ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ - 1/196 ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ - 1/179 ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﺘﺎﺗﺎﺭﺧﺎﻧﻴﺔ 237/2- ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﻟﻠﺴﺮﺧﺴﻰ - 2/191
ﻻ ﺧﻼﻑ ﻓﻲ ﻛﻔﺮ ﺍﻟﻤﺨﺎﻟﻒ ﻓﻲ ﺿﺮﻭﺭﻳﺎﺕ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻣﻦ ﺣﺪﻭﺙ ﺍﻟﻌﺎﻟﻢ ﻭﺣﺸﺮ ﺍﻷﺟﺴﺎﺩ ﻭﻧﻔﻲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺑﺎﻟﺠﺰﺋﻴﺎﺕ ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﺍﻟﻤﻮﺍﻇﺐ ﻃﻮﻝ ﻋﻤﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻄﺎﻋﺎﺕ ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﺮ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﻤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﺍﻹﻣﺎﻣﺔ، ﻣﻄﻠﺐ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﺧﻤﺴﺔ ﺃﻗﺴﺎﻡ - 2/300
খাদেমুল ইফতাঃ
বহু গ্রন্থ প্রণেতা-
{মুফতি শাইখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট}
তারিখঃ26/05/2019ইং

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

মোবাইল ফোন গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রশ্ন, বক্তব্য বা উপদেশ শুনতে BTRC গণশুনানি।

মোবাইল ফোন গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রশ্ন, বক্তব্য বা উপদেশ শুনতে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’বিষয়ক গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১২ জুন, বেলা ১১টায় রাজধানীর আইইবি অডিটরিয়ামে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে অংশ নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী, বাংলাদেশের ভোক্তা সংঘ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীসহ আগ্রহী যেকোনো ব্যক্তি।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে অপারেটরদের সেবার মান, কল ড্রপ, ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সার্ভিসসহ বিভিন্ন অভিযোগসহ উপদেশ দিতে পারবেন মোবাইল ফোন গ্রাহকরা।

গণশুনানিতে অংশ নিতে ৩ জুনের মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এদের মধ্য থেকে যারা যৌক্তিক প্রশ্ন/বক্তব্য/উপদেশ দেবেন তাদের বাছাই করা হবে।

পরে তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। রেজিস্ট্রেশন করা যাবে এই লিঙ্কে
http://www.btrc.gov.bd/registration-form
প্রবেশ করে।

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

GrameenPhone Free Internet in Bangladesh


GP EasyNet is your doorway to internet and it’s absolutely free! Get the best and most exclusive internet bundles, use free sites such as Facebook and Prothom-Alo, and download free games and much more!

So enjoy, explore and pass on the blessing of internet!

What is EasyNet?

Easynet is an easy and simple web platform targeted at giving access to users ranging from basic internet enabled phone to smartphones. Through Easynet platform customers can enjoy with free internet browsing, attractive internet packs, free games, free internet packs and different applications.

How can I avail it?

Either you can open your browser and type in the URL www.gpeasynet.com or if you don’t have internet pack dial *121*3355# and get a link to the webpage via reply SMS. When you click the link you will be taken to Gp EasyNet site.

If you are using a GP internet pack, you can also access the site through the browser of your phone/laptop for FREE.

How Much Will I Be Charged?

Easynet site is completely free for you. You will be charged when you buy internet packs or other such content through this site.

What More Can I do here?

Win free internet, simply by downloading and installing the app you want. Visit Easy Net.
Recharge: Recharge your phone number using mobile wallet or credit/debit cards. Visit Easy Net.
Search: Type your desired keywords/sentences in the search box and get results from Google. Visit Easy Net.
Buy Packs: Get exclusive internet packs, even when you have no data. Simply visit EasyNet & avail your desired internet pack today!
Let’s Visit: Visit free sites (meaning no data will be consumed for using these sites). Visit Easy Net.
GP Apps Store: You can download FREE apps and games from here and will be charged only if you request for the full version within the games. Visit Easy Net.
Daily Digest:
Horoscope: Want to know how your weekend will go? Visit EasyNet and know your horoscope
Health Tips: To stay Fit & Healthy, go through our health tips that will help you lead a more fit life. Visit http://www.gpeasynet.com
Today’s Recipe: Today’s Recipe! Get a new recipe every other day for FREE and try it out now. Don’t forget to visit http://www.gpeasynet.com TODAY.
Today in History: What happened on this day in history? Visit Easy Net and get to know this and more.
Jokes: Lighten up your day with fun jokes and much more from Easy Net today.
Tips & Tricks: Want to know simple tips and tricks that will make your life easier? Visit EasyNet now.
Terms & Conditions

The GP EasyNet page is free for all GP subscribers i.e. there will not be any browsing charges within the page.
Customers can dial *121*3355# and get the website link in reply SMS.
Customers don’t need data packs to visit this page. Data packs can be purchased from this page -Browsing outside the page will be charged according to customers subscribed data pack (if any) or at Pay As You Go rate.
5% Supplementary Duty (SD) + 15 % VAT inclusive of SD will be applicable for all charges + 1% surcharge on base tariff will be applicable on Data pack/Pay As You Go Prices.
This page can be accessed through both smartphones and feature phones. Internet connection is required.
If customers decide to purchase data packs or paid content, he/she will be charged the mentioned price. 5% Supplementary Duty (SD) + 15 % VAT inclusive of SD will be applicable for all charges + 1% surcharge on base tariff
Services linked in the Easy Net page and Free basics page are free to access, however, customers may be charged if customers move away from the Easy Net and Free basics page through links in other services or access any other services not listed in the Easy Net and Free basics page.
By accessing the Facebook flex/free basics portal, customers provide their informed consent to share their mobile number with Facebook and agree to all terms and conditions.
Customers under 3G coverage will get up to 1Mbps speed while browsing this page. Customers not under 3G coverage will experience the maximum available 2G speeds. Average likely speed will depend on multiple factors such as handset used, website visited, and distance from BTS etc.

ফিৎনা সৃষ্টিকারী মসজিদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা

মসজিদে দ্বিরার বা ফিৎনা সৃষ্টিকারী মসজিদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনাঃ
(মসজিদে দ্বিরার বা ফিতনা সৃষ্টিকারি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলাই উত্তম)
তাবুকের যুদ্ধের সময় কিছু মুসলমান মসজিদে কুবার নিকট নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন,যেটিকে দ্বিরার মসজিদ বলা হয়।
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাবুক যুদ্ধে জয়লাভ করে ফিরছিলেন। তখন সেই দ্বিরার মসজিদ নির্মাণকারী মুসলমানগণ নবীজির সামনে এসে বললো ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি, আপনি আসুন এবং সালাত আদায় করুন।
মুনাফিক মুসলমানদের ইচ্ছা ছিল তারা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দিয়ে এ মসজিদ উদ্বোধন করাবে।
এসময় আল্লাহ পাক মুনাফিকদের দূরভিসন্ধি নস্যাৎ করে ওহি নাজিল করলেন।
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ ﻣَﺴْﺠِﺪًﺍ ﺿِﺮَﺍﺭًﺍ ﻭَﻛُﻔْﺮًﺍ ﻭَﺗَﻔْﺮِﻳﻘًﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺇِﺭْﺻَﺎﺩًﺍ ﻟِّﻤَﻦْ ﺣَﺎﺭَﺏَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻞُ ۚ ﻭَﻟَﻴَﺤْﻠِﻔُﻦَّ ﺇِﻥْ ﺃَﺭَﺩْﻧَﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ۖ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺸْﻬَﺪُ ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻟَﻜَﺎﺫِﺑُﻮﻥَ ‏[ ٩ : ١٠٧ ]
অর্থাৎ:আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায়,মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ,যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে,আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে,তারা সবাই মিথ্যুক। {সূরা তওবা-১০৭}
উক্ত আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদেরকে এ মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেন।
সাথে সাথে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলা হলো। বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের ৫ম খন্ডে এ ঘটনা বিস্তারিত উল্লেখ আছে।
 দেখা গেছে আশেপাশে মসজিদ থাকা সত্ত্বেও তারা মসজিদ তৈরি করেছে এবং তার নাম দিয়েছে মারকাজ মসজিদ (বর্তমানে ইসলামিক সেন্টার)।
 এভাবে এরুপ মসজিদ নির্মাণ মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং মুসল্লীদের বিভক্ত করছে, যা কিনা মসজিদে দ্বিরার'র সমতুল্য।
অধিকাংশ মারকাজ মসজিদ (ইসলামিক সেন্টার) জিদের বশবর্তী হয়ে তৈরি করা হয়।
 লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ঐ সমস্ত মারকাজ মসজিদে (ইসলামিক সেন্টার) ফেতনা সৃষ্টিকারী একটি গোত্রের লোক ব্যতিত অন্য কেউ নামাজ আদায় করতে যায় না।
 তাই মারকাজ মসজিদ আর মসজিদে দ্বিরার এবং বর্তমান ইসলামিক সেন্টার একই মসজিদ। উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে জিদের বশবর্তী হয়ে তৈরি করা মসজিদে দ্বিরার ভেঙ্গে ফেলা হলো।
তাই উক্ত আয়াত হতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে,যে সমস্ত মসজিদ জিদের বশবর্তী হয়ে ফিৎনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং মুসল্লীদেরকে বিভক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়,সে সব মসজিদে নামাজ পড়া জায়েজ নাই, তা ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ।
ﺭﻭﺡ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﻓﻲ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
} ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻣﺴﺠﺪﺍ } ﺍﻯ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﻤﺘﺨﻠﻔﻴﻦ ﻋﻦ ﻏﺰﻭﺓ ﺗﺒﻮﻙ ﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻘﻮﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎ ﻭﻫﻮ ﺑﻀﻢ ﺍﻟﻘﺎﻑ ﻭﻳﺬﻛﺮ ﻭﻳﻘﺼﺮ ﻗﺮﻳﺔ ﻗﺮﺏ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻋﻠﻰ ﻧﺼﻒ ﻓﺮﺳﺦ ﻣﻨﻬﻤﺎ ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺘﺒﻴﺎﻥ .
ﺍﻋﻠﻢ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻤﺎ ﻫﺎﺟﺮ ﻣﻦ ﻣﻜﺔ ﻭﻗﺪﻡ ﻗﺒﺎ ﻧﺰﻝ ﻓﻰ ﺑﻨﻰ ﻋﻤﺮﻭ ﺍﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻭﻫﻢ ﺑﻄﻦ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﺱ ﻋﻠﻰ ﻛﻠﺜﻮﻡ ﺑﻦ ﺍﻟﻬﺪﻡ ﻭﻛﺎﻥ ﺷﻴﺦ ﺑﻨﻰ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻭﻫﻞ ﻛﺎﻥ ﺍﺳﻠﻢ ﻗﺒﻞ ﻭﺻﻮﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻰ ﻗﺒﺎ ﺍﻭ ﺑﻌﺪﻩ ﻓﻔﻴﻪ ﺍﺧﺘﻼﻑ ﻓﻠﻤﺎ ﻧﺰﻝ ﻭﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﻳﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻻﺛﻨﺘﻰ ﻋﺸﺮﺓ ﻟﻴﻠﺔ ﺧﻠﺖ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻻﻭﻝ .
ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺎﺭ ﺑﻦ ﻳﺎﺳﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻣﺎ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺪ ﻣﻦ ﺍﻥ ﻳﺠﻌﻞ ﻟﻪ ﻣﻜﺎﻥ ﻳﺴﺘﻈﻞ ﺑﻪ ﺍﺫﺍ ﺍﺳﺘﻴﻘﻆ ﻭﻳﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﻓﺠﻤﻊ ﺣﺠﺎﺭﺓ ﻓﺎﺳﺲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻭﺍﺳﺘﺘﻢ ﺑﻨﻴﺎﻧﻪ ﻋﻤﺎﺭ ﻓﻌﻤﺎﺭ ﺍﻭﻝ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻟﻌﻤﻮﻡ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭﻛﺎﻥ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎ ﺍﻭﻝ ﻣﺴﺠﺪ ﺻﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺎﺻﺤﺎﺑﻪ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻇﺎﻫﺮﻳﻦ ﺍﻯ ﺁﻣﻨﻴﻦ ﻭﺑﻌﺪ ﺗﺤﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻭﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺑﻌﺪ ﺍﻥ ﻟﺒﺚ ﻓﻰ ﻗﺒﺎ ﺑﻘﻴﺔ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﻳﻮﻡ ﺍﻟﺜﻼﺛﺎﺀ ﻭﻳﻮﻡ ﺍﻻﺭﺑﻌﺎﺀ ﻭﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻤﻴﺲ ﺍﻭ ﺑﻀﻊ ﻋﺸﺮﺓ ﻟﻴﻠﺔ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻤﻨﻘﻮﻝ ﻋﻦ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﺍﻭ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﻋﺸﺮ ﻳﻮﻣﺎ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻤﻨﻘﻮﻝ ﻋﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﺄﺗﻴﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺴﺒﺖ ﻣﺎﺷﻴﺎ ﻭﺭﺍﻛﺒﺎ ﻭﻳﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺛﻢ ﻳﻨﺼﺮﻑ ﻭﻓﻰ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ "
ﻣﻦ ﺗﻮﺿﺄ ﻭﺍﺳﺒﻎ ﺍﻟﻮﺿﻮﺀ ﺛﻢ ﺟﺎﺀ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎ ﻓﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﻟﻪ ﺍﺟﺮ ﻋﻤﺮﺓ
" . ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺴﻴﺮﺓ ﺍﻟﺤﻠﺒﻴﺔ ﻓﻬﺬﺍ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺿﻌﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻋﻤﺎﺭ ﺑﻤﻌﺎﻭﻧﺔ ﺑﻨﻰ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﺧﺎﻟﺼﺎ ﻟﻠﻬﺘﻌﺎﻟﻰ ﻛﻤﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻻﻛﺜﺮﻭﻥ ﻭﻓﻰ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ "
ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻻ ﻳﺮﻳﺪ ﺑﻪ ﺭﻳﺎﺀ ﻭﻻ ﺳﻤﻌﺔ ﺑﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﺑﻴﺘﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ
" . ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺴﺄﻟﺔ ﻟﻴﺴﺖ ﻋﻠﻰ ﻇﺎﻫﺮﻫﺎ ﻣﻦ ﻛﻞ ﺍﻟﻮﺟﻮﻩ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﻣﻌﻨﺎﻩ ﺑﻨﻰ ﻟﻪ ﺑﺜﻮﺍﺑﻪ ﺑﻨﺎﺀ ﺍﺷﺮﻑ ﻭﺍﻋﻈﻢ ﻭﺍﺭﻓﻊ ﻻﻥ ﺍﺟﻮﺭ ﺍﻻﻋﻤﺎﻝ ﻣﺘﻀﺎﻋﻔﺔ ﻭﺍﻥ ﺍﻟﺤﺴﻨﺔ ﺑﻌﺸﺮ ﺍﻣﺜﺎﻟﻬﺎ ﻭﻫﺬﺍ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﺜﻤﺮﺓ ﺍﻧﻬﺎ ﺗﺰﺍﺩ ﺣﺘﻰ ﺗﻜﻮﻥ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﺒﻞ ﻭﻟﻜﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺘﻀﻌﻴﻒ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﺑﺤﺴﺐ ﻣﺎ ﻳﻘﺘﺮﻥ ﺑﺎﻟﻔﻌﻞ ﻣﻦ ﺍﻻﺧﻼﺹ ﻓﺎﻥ ﺑﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﻏﻴﺮ ﺍﻻﺧﻼﺹ ﺍﻭ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻪ ﻏﻴﺮ ﻣﺮﺿﻰ ﻓﻼ ﺛﻮﺍﺏ ﻟﻪ ﻭﻻ ﻳﻌﺒﺄ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻪ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﻓﻰ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﻟﻪ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻣﻦ ﺍﻻﺣﺘﺮﺍﻡ ﻭﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻭﻛﺬﺍ ﺍﻟﺮﺑﻂ ﻭﺍﻟﺨﻮﺍﻧﻖ ﻭﺍﻟﻘﻨﺎﻃﺮ ﻭﺍﻟﻤﻄﺎﻫﺮ ﻭﻛﻞ ﺑﻨﺎﺀ ﻓﻬﻮ ﻣﺸﺮﻭﻁ ﺑﺬﻟﻚ ﻗﺎﻟﻪ ﻓﻰ ﺷﺮﺡ ﺍﻻﻟﻤﺎﻡ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﻮﻭﻯ ﻳﺪﺧﻞ ﻓﻰ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻣﻦ ﻋﻤﺮ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻗﺪ ﺍﺳﺘﻬﺪﻡ ﻭﺍﺫﺍ ﺍﺷﺘﺮﻙ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻓﻰ ﻋﻤﺎﺭﺓ ﻣﺴﺠﺪ ﻓﻬﻞ ﻳﺤﺼﻞ ﻟﻜﻞ ﻣﻨﻬﻢ ﺑﻴﺖ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻛﻤﺎ ﻟﻮ ﺍﻋﺘﻘﺪ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻋﺒﺪﺍ ﻣﺸﺘﺮﻛﺎ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﻳﻌﺘﻘﻮﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻭﻳﺠﻮﺯﻭﻥ ﺍﻟﻌﻘﺒﺔ ﻟﻘﻮﻟﻬﺘﻌﺎﻟﻰ
{ ﻭﻣﺎ ﺃﺩﺭﺍﻙ ﻣﺎ ﺍﻟﻌﻘﺒﺔ ﻓﻚ ﺭﻗﺒﺔ }
‏[ ﺍﻟﺒﻠﺪ : 12-13 ‏] ﻭﻗﺪ ﻓﺴﺮ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻚ ﺍﻟﺮﻗﺒﺔ ﺑﻌﺘﻖ ﺍﻟﺒﻌﺾ ﻭﺍﻟﻘﻴﺎﺱ ﺍﻟﺤﺎﻕ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﺑﺎﻟﻌﺘﻖ ﻻﻥ ﻓﻴﻪ ﺗﺮﻏﻴﺒﺎ ﻭﺣﻤﻼ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﺸﺎﺀ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﻋﻤﺎﺭﺗﻬﺎ ﻭﻫﻞ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﻣﻦ ﺑﻨﺎﺀ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺬﻫﺐ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺍﻟﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺟﻮﺍﺯﻩ ﻟﻘﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ "
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺆﻳﺪ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺑﺎﻟﺮﺟﻞ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮ
" . ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺒﻐﻮﻯ
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﻯ ﻋﻨﺪ ﻗﻮﻟﻬﺘﻌﺎﻟﻰ
{ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻟﻠﻤﺸﺮﻛﻴﻦ ﺃﻥ ﻳﻌﻤﺮﻭﺍ ﻣﺴﺎﺟﺪ ﺍﻟﻠﻪ }
‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ 17 : ‏] ﺩﻟﺖ ﺍﻵﻳﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﻜﻔﺎﺭ ﻣﻤﻨﻮﻋﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﻤﺎﺭﺓ ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭﻟﻮ ﺍﻭﺻﻰ ﻟﻢ ﺗﻘﺒﻞ ﻭﺻﻴﺘﻪ ﺍﻧﺘﻬﻰ .
ﻗﺎﻝ ﺳﻌﺪﻯ ﺟﻠﺒﻰ ﺍﻟﻤﻔﺘﻰ ﻋﺪﻡ ﻗﺒﻮﻝ ﻭﺻﻴﺘﻪ ﻣﺠﻤﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻴﻦ ﺍﺻﺤﺎﺑﻨﺎ ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﺍﻧﺘﻬﻰ ﻭﻻ ﻳﺼﻴﺮ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﺑﺒﻨﺎﺀ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻣﺴﻠﻤﺎ ﻭﺍﻥ ﻋﻈﻤﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺎﺗﻰ ﺑﺎﻟﺸﻬﺎﺩﺗﻴﻦ ﺑﺨﻼﻑ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺍﺫﺍ ﺍﺗﻰ ﻛﻨﻴﺴﺔ ﻭﺍﻋﺘﻘﺪ ﺗﻌﻈﻴﻤﻬﺎ ﻓﺎﻧﻪ ﻳﻜﻔﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﻳﺤﺼﻞ ﺑﻤﺠﺮﺩ ﺍﻟﻨﻴﺔ ﻭﺍﻻﺳﻼﻡ ﻻ ﻳﺤﺼﻞ ﺍﻻ ﺑﺎﻟﺘﻠﻔﻆ ﺑﺎﻟﺸﻬﺎﺩﺗﻴﻦ ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻘﺮﻳﺐ .
ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻔﻘﻴﺮ ﺳﺎﻣﺤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻘﺪﻳﺮ ﻋﻠﻢ ﻣﻨﻪ ﺍﻥ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻘﺒﻂ ﻓﻰ ﺍﻟﺪﻳﺎﺭ ﺍﻟﺮﻭﻣﻴﺔ ﻣﻤﻦ ﺍﻇﻬﺮ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺭﺃﻳﻨﺎﻫﻢ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻭﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻛﺼﻼﺓ ﺍﻟﻤﺨﻠﺼﻴﻦ ﻭﺻﻴﺎﻣﻬﻢ ﺛﻢ ﺍﻧﻬﻢ ﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﻛﻨﺎﺋﺲ ﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﻓﻰ ﻣﻮﺍﺳﻤﻬﻢ ﻓﻬﻢ ﻣﺮﺗﺪﻭﻥ ﺑﺬﻟﻚ ﻭﻻ ﺗﺼﺢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺗﺎﻫﻢ ﺍﻥ ﻣﺎﺗﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﺤﺎﻟﺔ ﻻﻧﻪ ﻻ ﺷﻚ ﻓﻰ ﺗﻌﻈﻴﻤﻬﻢ ﺍﻟﻜﻨﺎﺋﺲ ﻭﻣﻮﺍﻓﻘﺘﻬﻢ ﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﻓﻰ ﺍﻓﻌﺎﻟﻬﻢ ﻓﻰ ﺍﻳﺎﻣﻬﻢ ﻭﻟﻴﺎﻟﻴﻬﻢ ﺍﻟﻤﻌﻬﻮﺩﺓ ﻓﻼ ﻧﺘﻮﻗﻒ ﻓﻰ ﻛﻔﺮﻫﻢ ﻭﺍﻣﺎ ﺗﻠﻔﻈﻬﻢ ﺑﺎﻟﺸﻬﺎﺩﺓ ﻓﻬﻮ ﺑﺤﺴﺐ ﺍﻟﻌﺎﺩﺓ ﻭﻻ ﻳﻐﻨﻰ ﻋﻨﻬﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻓﻰ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﻭﺑﻌﺾ ﺍﻟﻤﻌﺎﺻﺮﻳﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻳﺘﻮﻗﻔﻮﻥ ﻓﻰ ﻛﻔﺮﻫﻢ ﺟﻬﻼ ﺍﻟﻌﻴﺎﺫ ﺑﺎﻟﻠﻬﺘﻌﺎﻟﻰ .
ﺛﻢ ﻧﺮﺟﻊ ﻭﻧﻘﻮﻝ ﺍﻥ ﺑﻨﻰ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻟﻤﺎ ﺑﻨﻮﺍ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺣﺴﺪﺗﻬﻢ ﺍﺧﻮﺗﻬﻢ ﺑﻨﻮ ﻏﻨﻴﻢ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻭﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻧﺼﻠﻰ ﻓﻰ ﻣﺮﺑﻂ ﺣﻤﺎﺭ ﻻﻣﺮﺃﺓ ﻋﻤﺮﻭ ﻭﺫﻟﻚ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻣﺮﺃﺗﻪ ﺗﺮﺑﻂ ﻓﻴﻪ ﺣﻤﺎﺭﻫﺎ ﻭﻗﻴﻞ ﻛﺎﻥ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎ ﻣﺤﻼ ﻳﺠﻔﻒ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﻤﺮ ﻟﻜﻠﺜﻮﻡ ﺑﻦ ﻫﺪﻡ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻓﺒﻨﻮﺍ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﺁﺧﺮ ﻓﻰ ﻗﺒﺎ ﻋﻠﻰ ﻗﺼﺪ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ ﻭﺗﻔﺮﻳﻖ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻭﺍﻥ ﻳﺆﻣﻬﻢ ﻓﻴﻪ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻟﺮﺍﻫﺐ ﺍﺫﺍ ﻗﺪﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺎﻡ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﺤﺪﺍﺩﻯ ﺍﻧﻬﻢ ﺑﻨﻮﻩ ﺑﺎﺫﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻣﺎﻗﻮﻝ ﻫﺬﺍ ﻳﺨﺎﻟﻒ ﺳﻮﻕ ﺍﻟﻘﺼﺔ ﻛﻤﺎ ﻻ ﻳﺨﻔﻰ ﻭﺑﻌﻴﺪ ﺍﻥ ﻳﺄﺫﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺒﻞ ﺍﺷﺎﺭﺓ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ . ﻭﻗﺼﺔ ﺍﺑﻰ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻟﺮﺍﻫﺐ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﺷﺮﺍﻑ ﻗﺒﻴﻠﺔ ﺍﻟﺨﺰﺭﺝ ﺗﻨﺼﺮ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻭﺗﺮﻫﺐ ﻭﻟﺒﺲ ﺍﻟﻤﺴﻮﺡ ﻭﻛﺎﻥ ﻣﺎﻫﺮﺍ ﻓﻰ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﺘﻮﺭﺍﺓ ﻭﺍﻻﻧﺠﻴﻞ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺎﺷﻔﻰ ‏[ ﻭﺑﻴﻮﺳﺘﻪ ﻧﻌﺖ ﻭﺻﻔﺖ ﺳﻴﺪ ﻋﺎﻟﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺮﺍﻫﻞ ﻣﺪﻳﻨﺔ ﻣﻰ ﺧﻮﺍﻧﺪ ﺟﻮﻥ ﺁﻥ ﺣﻀﺮﺕ ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﻫﺠﺮﺕ ﻛﺮﺩ ﺍﻫﻞ ﺍﻥ ﺧﻄﻪ ﺷﻴﻔﺘﻪ ﺟﻤﺎﻝ ﻭﻛﻤﺎﻝ ﻭﻯ ﺷﺪﻩ ﻭﺍﺯ ﺻﺤﺒﺖ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﺑﺮﻣﻴﺪﻧﺪ ﻭﺑﺮﻭﺍﻯ ﺍﻭﻧﻜﺮﺩﻧﺪ ‏]
ﺑﺎﻭﺟﻮﺩ ﻟﺐ ﺟﺎﻥ ﺑﺨﺶ ﺗﻮﺍﻯ ﺁﺏ ﺣﻴﺎﺗﺤﻴﻔﻢ ﺁﻳﺪ ﺳﺨﻦ ﺍﺯ ﺟﺸﻤﻪ ﺣﻴﻮﺍﻥ ﻛﻔﺘﻦ
ﻓﺤﺴﺪﻩ ﻭﻋﺎﺩﺍﻩ ﻻﻧﻪ ﺯﺍﻟﺖ ﺑﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺭﻳﺎﺳﺘﻪ ﻭﻗﺎﻝ ﻟﻪ ﻻ ﺍﺟﺪ ﻗﻮﻣﺎ ﻳﻘﺎﺗﻠﻮﻧﻚ ﺍﻻ ﻗﺎﺗﻠﺘﻚ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﻝ ﻳﺘﻘﺎﺗﻞ ﻣﻌﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻟﻰ ﺍﻥ ﺗﻘﺎﺗﻞ ﻣﻌﻪ ﻳﻮﻡ ﻫﻮﺍﺯﻥ ﻓﻠﻤﺎ ﺍﻧﻬﺰﻣﺖ ﻫﻮﺍﺯﻥ ﺧﺮﺝ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺸﺎﻡ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺎﺷﻔﻰ ‏[ ﺑﻨﺰﺩ ﻫﺮﻗﻞ ﻛﻪ ﻣﻠﻚ ﺭﻭﻡ ﺑﻮﺩ ﺑﺮﻓﺖ ﻭﻣﻯﺨﻮﺍﺳﺖ ﺍﺯﺭﻭﻡ ﻟﺸﻜﺮ ﺳﺎﺯ ﻛﺮﺩﻩ ﺑﺠﻨﻚ ﻣﺴﻠﻤﺎﻧﺎﻥ ﺁﻳﺪ ﻧﺎﻣﻪ ﻧﻮﺷﺖ ﺑﻤﻨﺎﻓﻘﺎﻥ ﺟﻮﻥ ﺛﻌﻠﺒﻪ ﺑﻦ ﺣﺎﻃﺐ ﻭﺍﻣﺜﺎﻝ ﺍﻭﻛﻪ ﺷﻤﺎﺩﺭ ﻣﻘﺎﺑﻠﻪ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎﺩﺭ ﻣﺤﻠﻪ ﺧﻮﻳﺶ ﺑﺮﺍﻯ ﻣﻦ ﻣﺴﺠﺪﻯ ﺑﺴﺎﺯﻳﺪﻛﻪ ﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﺑﻤﺪﻳﻨﻪ ﺁﻳﻢ ﺍﻧﺠﺎﺑﺎﻓﺎﺩﻩ ﻋﻠﻢ ﺍﺷﺘﻐﺎﻝ ﻧﻤﺎﻳﻢ ﺍﻳﺸﺎﻥ ﻣﺴﺠﺪﻯ ﺳﺎﺧﺘﻨﺪ ﻭﺣﻀﺮﺕ ﺭﺳﺎﻟﺖ ﺑﻨﺎﻩ ﺟﻮﻥ ﻋﺎﺯﻡ ﺗﺒﻮﻙ ﺷﺪ ﺑﺎﻧﻴﺎﻥ ﻣﺴﺠﺪ ﺁﻣﺪﻩ ﻛﻔﺘﻨﺪ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﺑﺮﺍﻯ ﺿﻌﻴﻔﺎﻥ ﻭﺑﻴﺠﺎﺭﻛﺎﻥ ﺩﺭ ﻭﻗﺖ ﺳﺮﻣﺎ ﻭﺑﺎﺭﻧﺪﻛﻰ ﻣﺴﺠﺪﻯ ﺳﺎﺧﺘﻪ ﺍﻳﻢ ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺱ ﺩﺍﺭﻳﻤﻜﻪ ﺩﺭ ﺁﻥ ﻣﺴﺠﺪ ﻧﻤﺎﺭﻛﺰﺍﺭﻯ ﻭﻏﺮﺽ ﺍﻳﺸﺎﻥ ﺁﻥ ﺑﻮﺩﻛﻪ ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﻧﻤﺎﺯ ﺁﻥ ﺣﻀﺮﺕ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻬﻢ ﺧﻮﺩﺭﺍ ﺩﺭﺍﺳﺘﺤﻜﺎﻡ ﺩﻫﻨﺪ ﺣﺘﺎﻧﺤﻪ ﺩﺭ ﻣﺜﻨﻮﻯ ﻣﻌﻨﻮﻯ ﻫﺴﺖ ‏]
ﻣﺴﺠﺪ ﻭﺍﺻﺤﺎﺏ ﻣﺴﺠﺪ ﺭﺍ ﻧﻮﺍﺯ ﺗﻮﻣﻬﻰ ﻣﺎ ﺷﺐ ﺩﻣﻰ ﺑﺎﻣﺎﺑﺴﺎﺯ
ﺗﺎﺷﻮﺩ ﺷﺐ ﺍﺯ ﺟﻤﺎﻟﺖ ﻫﻤﺠﻮﺭﻭﺯ ﺍﻯ ﺟﻤﺎﻟﺖ ﺁﻓﺘﺎﺏ ﺟﺎﻥ ﻓﺮﻭﺯ
ﺍﻯ ﺩﺭﻳﻐﺎ ﻛﺎﻥ ﺳﺨﻦ ﺍﺯﺩﻝ ﺑﺪﻯ ﺗﺎﻣﺮﺍﺩ ﺁﻥ ﻧﻔﺮ ﺣﺎﺻﻞ ﺷﺪﻯ
ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﺴﻴﺮﺓ ﺍﻟﺤﻠﺒﻴﺔ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺠﺘﻤﻌﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﻌﻴﺒﻮﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻳﺴﺘﻬﺰﺋﻮﻥ ﺑﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ "
ﺍﻧﻰ ﻋﻠﻰ ﺟﻨﺎﺡ ﺳﻔﺮ ﻭﺣﺎﻝ ﺷﻐﻞ ﻭﻟﻮ ﻗﺪﻣﻨﺎ ﻻﺗﻴﻨﺎﻛﻢ ﻓﺼﻠﻴﻨﺎﻛﻢ ﻓﻴﻪ
" . ﻓﻠﻤﺎ ﺭﺟﻊ ﻣﻦ ﺗﺒﻮﻙ ﺍﺗﻮﻩ ﻓﺴﺄﻟﻮﻩ ﺍﺗﻴﺎﻥ ﻣﺴﺠﺪﻫﻢ ﻓﺪﻋﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺑﻘﻤﻴﺼﻪ ﻟﻴﻠﺒﺴﻪ ﻭﻳﺄﺗﻴﻬﻢ ﻓﺎﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻫﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ ﻓﻘﺎﻝ { ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻣﺴﺠﺪﺍ } { ﺿﺮﺍﺭﺍ } ﻣﻔﻌﻮﻝ ﻟﻪ ﺍﻯ ﻣﻀﺎﺭﺓ ﻟﻠﻤﺆﻣﻨﻴﻦ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺎﺷﻔﻰ ‏[ ﺑﺮﺍﻯ ﺿﺮﺭ ﻣﺆﻣﻨﺎﻥ ﻭﺳﺘﻴﺰﻩ ﺍﻳﺸﺎﻥ ‏] { ﻭﻛﻔﺮﺍ } ﻭﺗﻘﻮﻳﺔ ﻟﻠﻜﻔﺮ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﻀﻤﺮﻭﻧﻪ { ﻭﺗﻔﺮﻳﻘﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ } ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺠﺘﻤﻌﻮﻥ ﻓﻰ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﺒﺎ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﺍﺭﺍﺩﻭﺍ ﺑﺒﻨﺎﺋﻬﻢ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺻﺮﻑ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﺍﻟﻴﻪ ﻭﺗﻔﺮﻳﻖ ﻛﻠﻤﺔ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ { ﻭﺍﺭﺻﺎﺩﺍ } ﺍﻯ ﺗﺮﻗﺒﺎ ﻭﺍﻧﺘﻈﺎﺭﺍ { ﻟﻤﻦ ﺣﺎﺭﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ } ﺍﻯ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻫﻮ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻟﺮﺍﻫﺐ ﺍﻯ ﻻﺟﻠﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺠﻴﺊ ﻓﻴﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﻈﻬﺮ ﻋﻠﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻗﺪ ﺳﺒﻖ ﺣﻀﻮﺭﻩ ﻓﻰ ﺍﻟﻮﻗﺎﺋﻊ ﻛﻠﻬﺎ ﻓﻤﻦ ﻣﺘﻌﻠﻖ ﺑﺤﺎﺭﺏ ﺍﻭ ﺑﺎﺗﺨﺬﻭﺍ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﻈﻬﺮ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻟﻨﻔﺎﻕ ﺑﺎﻟﺘﺨﻠﻒ { ﻭﻟﻴﺤﻠﻔﻦ } ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻟﻴﺤﻠﻔﻦ ﻓﻬﻮ ﺟﻮﺍﺏ ﻗﺴﻢ ﻣﻘﺪﺭ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺎﺷﻔﻰ ‏[ ﻭﻫﺮ ﺁﻳﻴﻨﻪ ﺳﻮﻛﻨﺪ ﻣﻴﺨﻮﺭﻧﺪ ﺟﻮﻥ ﻛﺴﻰ ﻛﻮﻳﺪ ﺟﺮﺍ ﺍﻳﻦ ﻣﺴﺠﺪ ﺳﺎﺧﺘﻴﺪ ‏] { ﺇﻥ } ﻧﺎﻓﻴﺔ { ﺃﺭﺩﻧﺎ } ﺍﻯ ﻣﺎ ﺍﺭﺩﻧﺎ ﺑﺒﻨﺎﺀ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ { ﺇﻻ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ } ﺍﻻ ﺍﻟﺨﺼﻠﻰ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ ﻭﻫﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺫﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺘﻮﺳﻌﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺼﻠﻴﻦ { ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻳﺸﻬﺪ ﺍﻧﻬﻢ ﻟﻜﺎﺫﺑﻮﻥ } ﻓﻰ ﺣﻠﻔﻬﻢ ﺫﻟﻚ ﻭﻟﻤﺎ ﻧﺰﻟﺖ ﻫﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ ﻭﺍﻋﻠﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺨﺒﺮﻫﻢ ﻭﻣﺎ ﻫﻤﻮﺍ ﺑﻪ "
ﺩﻋﺎ ﺍﻯ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺣﺸﻰ ﻗﺎﺗﻞ ﺣﻤﺰﺓ ﻭﺟﻤﺎﻋﺔ ﻣﻌﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ " ﺍﻧﻄﻠﻘﻮﺍ ﺍﻟﻰ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺍﻟﻈﺎﻟﻢ ﺍﻫﻠﻪ ﻓﺎﻫﺪﻭﻩ ﻭﺍﺣﺮﻗﻮﻩ " ﻓﺨﺮﺟﻮﺍ ﺳﺮﺍﻋﺎ ﻭﺍﺧﺬﻭﺍ ﺳﻌﻔﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺨﻞ ﻭﺍﺷﻌﻠﻮﺍ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻭﺫﻟﻚ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻭﻫﺪﻣﻮﻩ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﺍﻣﺮ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻥ ﻳﺘﺨﺬ ﻛﻨﺎﺳﺔ ﻳﻠﻘﻰ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﻘﻤﺎﻣﺔ ﻭﺍﻟﺠﻴﻒ ﺛﻢ ﺑﻌﺪ ﺯﻣﺎﻥ ﺍﻋﻄﺎﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﺜﺎﺑﺖ ﺑﻦ ﺍﺭﻗﻢ ﻳﺠﻌﻠﻪ ﺑﻴﺘﺎ ﻓﻠﻢ ﻳﻮﻟﺪ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻣﻮﻟﻮﺩ ﻗﻂ ﻭﺣﻔﺮ ﻓﻴﻪ ﺑﻘﻌﺔ ﻓﺨﺮﺝ ﻣﻨﻬﺎ ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ
ﻭﻣﺎﺕ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﺑﺎﻟﺸﺎﻡ ﻭﺣﻴﺪﺍ ﻏﺮﻳﺒﺎ ﻭﺫﻟﻚ
ﺍﻧﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻟﻤﺎ ﻗﺪﻡ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﺍﻗﺒﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺬﻯ ﺟﺌﺖ ﺑﻪ ﻗﺎﻝ " ﺟﺌﺖ ﺑﺎﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﺩﻳﻦ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ " ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﻭﺍﻧﺎ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ " ﺍﻧﻚ ﻟﺴﺖ ﻋﻠﻴﻬﺎ " ﻗﺎﻝ ﺑﻠﻰ ﻭﻟﻜﻨﻚ ﺍﺩﺧﻠﺖ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ " ﻣﺎ ﻓﻌﻠﺖ ﺫﻟﻚ ﻭﻟﻜﻦ ﺟﺌﺖ ﺑﻬﺎ ﺑﻴﻀﺎﺀ ﻧﻘﻴﺔ " ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻣﺎﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻜﺎﺫﺏ ﻣﻨﺎ ﻃﺮﻳﺪﺍ ﻏﺮﻳﺒﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ " ﺁﻣﻴﻦ " ﻓﺴﻤﺎﻩ ﺍﺑﺎ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻟﻔﺎﺳﻖ
ﻣﻜﺎﻥ ﺍﻟﺮﺍﻫﺐ ﻓﻤﺎﺕ ﻛﺎﻓﺮﺍ ﺑﻘﻨﺴﺮﻳﻦ ﻭﻫﻰ ﺑﻜﺴﺮ ﺍﻟﻘﺎﻑ ﻭﺗﺸﺪﻳﺪ ﺍﻟﻨﻮﻥ ﺍﻟﻤﻔﺘﻮﺣﺔ ﺍﻭ ﺍﻟﻤﻜﺴﻮﺭﺓ ﺍﺳﻢ ﺑﻠﺪﺓ ﻓﻰ ﺍﻟﺸﺎﻡ ﻭﻣﻊ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺨﺒﺎﺛﺔ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﻭﻟﺪ ﺻﺎﻟﺢ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﺣﻨﻈﻠﺔ ﺍﺳﺘﺸﻬﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﺣﺪ ﻓﻐﺴﻠﺘﻪ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ : ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺴﻌﺪﻯ ﻗﺪﺱ ﺳﺮﻩ
ﻫﻨﺮ ﺑﻨﻤﺎﻯ ﺍﻛﺮ ﺩﺍﺭﻯ ﻧﻪ ﻛﻮﻫﺮ ﻛﻞ ﺍﺯﺧﺎﺭﺳﺖ ﻭﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﺯ ﺁﺯﺭ
ﻭﻓﻰ ﺍﻵﻳﺔ ﺍﺷﺎﺭﺓ ﺍﻟﻰ ﺍﻥ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻄﺒﻴﻌﺔ { ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ } ﻣﺰﺑﻠﺔ ﺍﻟﻨﻔﺲ { ﻣﺴﺠﺪﺍ ﺿﺮﺍﺭﺍ } ﻻﺭﺑﺎﺏ ﺍﻟﺤﻘﻴﻘﺔ { ﻭﻛﻔﺮﺍ } ﺑﺎﺣﻮﺍﻟﻬﻢ ﻛﻤﺎ ﺍﻧﻬﻢ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﺑﺴﺘﺎﻥ ﺍﻟﻘﻠﺐ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻳﺬﻛﺮﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﻄﻠﺒﻮﻧﻪ ﻭﻫﺬﺍ ﻭﺻﻒ ﻣﺪﻋﻰ ﺍﻟﻄﻠﺐ ﺍﻟﻜﺬﺍﺑﻴﻦ ﻓﻰ ﺩﻋﻮﺍﻫﻢ ﺍﻟﻤﺘﺸﺒﻬﻴﻦ ﺑﺰﻯ ﺍﺭﺑﺎﺏ ﺍﻟﺼﺪﻕ ﻭﺍﻟﻄﻠﺐ { ﻭﺗﻔﺮﻳﻘﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ } ﺍﻟﻄﺎﻟﺒﻴﻦ ﺍﻟﺼﺎﺩﻗﻴﻦ ﺑﺎﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺪﻋﻮﻯ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺍﻯ ﻳﻔﺮﻗﻮﻥ ﺑﻴﻦ ﺍﻻﺧﻮﺍﻥ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰ ﻃﻠﺐ ﺍﻧﻮﺍﻉ ﺍﻟﺤﻴﻞ ﺗﺎﺭﺓ ﺑﻄﻠﺐ ﺻﺤﺒﺔ ﻣﻌﻬﻢ ﻭﻣﺮﺍﻓﻘﺘﻬﻢ ﻓﻰ ﺍﻻﺳﻔﺎﺭ ﻭﺗﺎﺭﺓ ﺑﺬﻛﺮ ﺍﻟﺒﻠﺪﺍﻥ ﻭﻛﺜﺮﺓ ﺍﻟﻨﻌﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﻃﻴﺐ ﻫﻮﺍﺋﻬﺎ ﻭﻛﺮﻡ ﺍﻫﻠﻬﺎ ﻭﺍﺭﺍﺩﺗﻬﻢ ﻟﻬﺬﻩ ﺍﻟﻄﺎﺋﻔﺔ ﻟﻴﺰﻋﺠﻮﻫﻢ ﻋﻦ ﺧﺪﻣﺔ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﻭﺻﺤﺒﺔ ﺍﻻﺧﻮﺍﻥ { ﻭﺇﺭﺻﺎﺩﺍ ﻟﻤﻦ ﺣﺎﺭﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ } ﻟﻴﻮﻗﻌﻮﻫﻢ ﻓﻰ ﺑﻼﺀ ﺻﺤﺒﺔ ﺍﻻﺑﺎﺣﻴﺔ ﻣﻦ ﻣﺪﻋﻰ ﺍﻟﻔﻘﺮ ﻭﺍﻟﻤﻌﺮﻓﺔ ﻭﻫﻢ ﻳﺤﺎﺭﺑﻮﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺘﺮﻙ ﺩﻳﻨﻪ ﻭﺷﺮﻳﻌﺘﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﺑﺘﺮﻙ ﻣﺘﺎﺑﻌﺘﻪ ﻭﺍﺣﻴﺎﺀ ﺳﻨﺘﻪ { ﻭﻟﻴﺤﻠﻔﻦ ﻟﻬﻢ ﺍﻥ ﺍﺭﺩﻧﺎ ﺍﻻ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ } ﻓﻴﻤﺎ ﺩﻋﻮﻧﺎﻛﻢ ﺍﻟﻴﻪ { ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻳﺸﻬﺪ ﺍﻧﻬﻢ ﻟﻜﺎﺫﺑﻮﻥ } ﻓﻴﻤﺎ ﻳﺪﻋﻮﻥ ﻭﻳﺤﻠﻔﻮﻥ ﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﺘﺄﻭﻳﻼﺕ ﺍﻟﻨﺠﻤﻴﺔ .
[সূত্রঃতাফছিরে রুহুলবয়ান-সূরা তাওবাহ'র107 নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন]
Mufti Shaikh Muhammad Nurul Islam Nokshabandi-Mujaddedi from Sylhet Sadar.dated

সুদের টাকার বিধান, সুদের টাকা দিয়ে হজ্ব ও সাইয়্যেদ বংশের মান্যবর ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া প্রসঙ্গে ইসলামী শরয়ী ফতোয়া


সুদের টাকার বিধান, সুদের টাকা দিয়ে হজ্ব ও সাইয়্যেদ বংশের মান্যবর ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া প্রসঙ্গে ইসলামী শরয়ী ফতোয়াঃ
প্রশ্নঃ
মুহতারাম মুফতি সাহেব!
আসসালামু আলাইকুম৷ আমি আপনার কাছে জানতে চাই যে,একজন সরকারি চাকুরিজীবী মহিলা চাকুরি শেষে পেনশনের কিছু টাকা পান।
যা দিয়ে তার হজ্জের নিয়ত ছিলো।কিন্তু তার অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা,আগে তার ভাইয়েরা করালেও,দুই ভাইয়ের মৃত্যুর পর,অন্য এক ভাই ও বাকি বোনেরা ততটা সক্ষম নন।
তাই তিনি পেনশনের টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে কেবল সুদের টাকাটা চিকিৎসা খরচ হিসেবে দেন।মহিলার মাতা সৈয়দ বংশীয়া।
এক নং প্রশ্নঃ
এভাবে সঞ্চয়পত্রের সুদের টাকায় চিকিৎসা খরচ দেবার ব্যাপারে শরীয়ত কী বলে?
দুই নং প্রশ্নঃ
এই সঞ্চয়পত্র ভেঙে(মায়ের মৃত্যুর পর বা আগেই সমাধান হলে)হজ্জ করলে হবে কিনা?
তিন নং প্রশ্নঃ
সৈয়দ বংশীয় লোকদের যাকাত/সদকা দেওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ
ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
১ম প্রশ্নের জবাবঃ
এভাবে সঞ্চয় পত্র ক্রয় করে সুদ খাওয়া গ্রহণ বৈধ নয়। তবে সূদের টাকার বিধান হল, যদি তা মূল মালিকের কাছে ফেরত দেবার পদ্ধতি না থাকে, যেমন ব্যাংকের সুদ, তাহলে উক্ত টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবকে দান করে দিতে হয়।
সেই হিসেবে কোন গরীব ব্যক্তির চিকিৎসার জন্যও দান করা যাবে।
ﻓﻰ ﻣﻌﺎﺭﻑ ﺍﻟﺴﻨﻦ - ﻣﻦ ﻣﻠﻚ ﺑﻤﻠﻚ ﺧﺒﻴﺚ ﻭﻟﻢ ﻳﻤﻜﻨﻪ ﺍﻟﺮﺩ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻤﺎﻟﻚ ﻓﺴﺒﻴﻠﻪ ﺍﻟﺘﺼﺪﻕ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻔﻘﺮﺍﺀ ‏( ﻣﻌﺎﺭﻑ ﺍﻟﺴﻨﻦ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﻬﺎﺭﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻻ ﺗﻘﺒﻞ ﺻﻼﺓ ﺑﻐﻴﺮ ﻃﻬﻮﺭ - 1/34 ، ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﺸﺎﻣﻴﺔ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺒﻴﻊ ﺍﻟﻔﺎﺳﺪ، ﻣﻄﻠﺐ ﻓﻰ ﻣﻦ ﻭﺭﺙ ﻣﺎﻻ ﺣﺮﺍﻣﺎ - 7/301 ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ، ﻓﺼﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﺒﻴﻊ - 9/554 ، ﺑﺬﻝ ﺍﻟﻤﺠﻬﻮﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﻬﺎﺭﺓ، ﺑﺎﺏ ﻓﺮﺽ ﺍﻟﻮﺿﻮﺀ - 1/37 .
২য় প্রশ্নের জবাব
মূল টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হবে। কিন্তু সূদী টাকায় হজ্ব করলে ফরজের দায়িত্বমুক্ত হলেও সওয়াবও পাবে না এবং হজ্বও কবুল হবে না।
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨَﺎﻓِﻲ ﺑَﻴْﻦَ ﺳُﻘُﻮﻃِﻪِ، ﻭَﻋَﺪَﻡِ ﻗَﺒُﻮﻟِﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﺜَﺎﺏُ ﻟِﻌَﺪَﻡِ ﺍﻟْﻘَﺒُﻮﻝِ، ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻌَﺎﻗَﺐُ ﻋِﻘَﺎﺏَ ﺗَﺎﺭِﻙِ ﺍﻟْﺤَﺞِّ . ﺍﻫـ .
ﺃَﻱْ ﻟِﺄَﻥَّ ﻋَﺪَﻡَ ﺍﻟﺘَّﺮْﻙِ ﻳُﺒْﺘَﻨَﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼِّﺤَّﺔِ : ﻭَﻫِﻲَ ﺍﻟْﺈِﺗْﻴَﺎﻥُ ﺑِﺎﻟﺸَّﺮَﺍﺋِﻂِ، ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﻛَﺎﻥُ ﻭَﺍﻟْﻘَﺒُﻮﻝُ ﺍﻟْﻤُﺘَﺮَﺗِّﺐُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺜَّﻮَﺍﺏُ ﻳُﺒْﺘَﻨَﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺷْﻴَﺎﺀَ ﻛَﺤِﻞِّ ﺍﻟْﻤَﺎﻝِ ﻭَﺍﻟْﺈِﺧْﻠَﺎﺹِ ﻛَﻤَﺎ ﻟَﻮْ ﺻَﻠَّﻰ ﻣُﺮَﺍﺋِﻴًﺎ ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻡَ ﻭَﺍﻏْﺘَﺎﺏَ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟْﻔِﻌْﻞَ ﺻَﺤِﻴﺢٌ ﻟَﻜِﻨَّﻪُ ﺑِﻠَﺎ ﺛَﻮَﺍﺏٍ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﺞ، ﻣﻄﻠﺐ ﻓﻴﻤﻦ ﺣﺞ ﺑﻤﺎﻝ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ -454 453/3 - ، ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ، ﺍﻟﺒﺎﺏ ﺍﻻﻭﻝ - 1/220 )
৩য় প্রশ্নের জবাবঃ
সাইয়্যেদ বংশীয় তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশীয় কাউকে যাকাত ও সদকায়ে ফিতির দেওয়া বৈধ নয়।
তবে উপহার স্বরুপ সম্মানের সহিত অন্যান্য সাধারণ কল্যাণকর জিনিস আহলে বায়িতকে দেওয়া যাবে।
তবে যদি নামকাওয়াস্তে সৈয়দ বংশীয় হয়। অর্থাৎ মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা এর বংশীয় না হয়,তাহলে যাকাত গ্রহণ করতে পারে।
ﺃَﺑَﺎ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﺤَﺴَﻦُ ﺑْﻦُ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﺗَﻤْﺮَﺓً ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮِ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ، ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬَﺎ ﻓِﻲ ﻓِﻴﻪِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻛِﺦْ ﻛِﺦْ ‏» ﻟِﻴَﻄْﺮَﺣَﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺃَﻣَﺎ ﺷَﻌَﺮْﺕَ ﺃَﻧَّﺎ ﻻَ ﻧَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔَ ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -1491 ، ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -1069 ‏)
ﻋَﻦْ ﻋَﻄَﺎﺀِ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﻴْﺖُ ﺃُﻡَّ ﻛُﻠْﺜُﻮﻡٍ ﺍﺑْﻨَﺔَ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﻓَﺮَﺩَّﺗْﻬَﺎ ﻭَﻗَﺎﻟَﺖْ : ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻣَﻮْﻟًﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ : ﻣِﻬْﺮَﺍﻥُ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ” ﺇِﻧَّﺎ ﺁﻝُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻟَﺎ ﺗَﺤِﻞُّ ﻟَﻨَﺎ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔُ ” ﻭَﻣَﻮْﻟَﻰ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ‏( ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -15708
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ
খাদিমুল ইফতাঃ
{মুফতি শাইখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট}

শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৯

টাকনুর ওপর কাপড় ও মুখে দাঁড়ি জঙ্গীর লক্ষণ ৷ আমার সামনে কেউ এরকম কথা বললে জুতা দিয়ে পিঠায়ে এ দেশ হতে বের করে দেব

"টাকনুর ওপর কাপড় ও মুখে দাঁড়ি জঙ্গীর লক্ষণ"
আমার সামনে কেউ এরকম কথা বললে জুতা দিয়ে পিঠায়ে এ দেশ হতে বের করে দেব৷
যত বড় নেতা হোক না কেন৷


বারশত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ,ইমামে রব্বানী,ওলিকুল শিরোমণী হযরত শেখ আহমদ ফারুকী মুজাদ্দেদ আলফে ছানী রাহিমাহুল্লাহি তাআলা হলেন আমার তরিকতের চৌদ্ধ গোষ্ঠীর বড় বাপ৷তিনি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় মুঘল সম্রাট,নাস্তিক-মুরতাদ দ্বীনে এলাইর প্রবর্তক বাদশাহ আকবরকে নিজ হাত মোবারকে নহে বরং তাঁর জুতা মোবারকের ধুলি দিয়ে আকবরের ক্ষমতাধর শাহেন শাহী মসনদ নির্মূল করে দিয়েছিলেন৷আর তিনি বলেছিলেন কিয়ামতের এক সেকেন্ড আগেও বাদশাহ আকবরের পরিবার বা বংশের কোন ব্যক্তি মহান আল্লাহর এ জমিনে কোন দিন শাসক,রাজা ও বাদশাহ হতে পারবেনা৷ঐ কারামতের কথা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে?আজ আমরা নকশবন্দী-মুজাদ্দেদীয়ার তরিকা মতে হযরত মুজাদ্দেদ আলফে ছানীর প্রকৃত অনুসারি,তাঁর নুরানী তাওয়াজ্জোহ আমাদের রক্তে-মাংশে আছে৷অতএব আমি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের ভবিষ্যৎ পৃষ্টপোষক ও  একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সু-শিক্ষিত সন্তান হিসেবে বলতেছি৷বাংলাদেশের ভেতরে কোন ক্ষমতাধর নেতা হোক,সন্ত্রাসী হোক,বা এমপি- মন্ত্রী এমন কি কোন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোক হোক না কেন? কেউ যদি আমার প্রাণ প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম'র তরিকা আহলে সুন্নত এবং তাঁর প্রবর্তিত ইসলাম ও অনুসারি মুসলমানের দাঁড়ি, টুপি নিয়ে ব্যঙ্গ করে আমি আমার তরিকতের সকল অনুসারি নিয়ে জুতা দিয়ে পিঠায়ে ঐ নাস্তিক ও মুরতাদকে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেব৷এ দেশ কারও বাপ-দাদার দেশ নহে বরং হযরত শাহ জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শাহপরাণ আলিয়াসহ 360 আউলিয়ার দেশ৷নাস্তিক-মুরতাদ হারামির বাচ্চারা তোমরা দেখে নাও প্রকৃত পক্ষে কোন মুসলিম জঙ্গী নহে বরং নিম্নের ক্ষমতার ধর ব্যক্তিরাই জঙ্গী ছিল৷আর ওদের অনুসারি গংরা দাঁড়ি ও টুপি পরে জঙ্গী সেঝেছে৷কারা জঙ্গীবাদের উদ্ভাবক ছিল?
নিম্নে বিস্তারিত প্রমাণ জাতির সম্মুখে উপস্থাপন করলামঃ
প্রকৃত সন্ত্রাসী কারা? জঙ্গীবাদের উদ্ভব মুসলিম হতে না নন-মুসলিম হতে?
বিশ্ব বিবেকবানদের নিকট আমার প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম,
উত্তর দেনঃ ১। হিটলার, একজন অমুসলিম ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিল।
 ২। জোসেফ স্ট্যালিন, একজন অমুসলিম সে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, এবং ১৪. ৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা গেছে...! মিডিয়া একবারও বলেনি তারা খ্রিষ্টান টেরোরিস্ট।
৩। মাও সে তুং একজন অমুসলিম, ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে বৌদ্ধ টেরোরিস্ট।
৪। মুসলিনী ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। সে কি মুসলিম ছিল? অন্ধ মিডিয়া একবারও বলে নাই সে খ্রিষ্টান টেরোরিস্ট।
 ৫। অশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি, সে হিন্দু টেরোরিস্ট।
৬। আর জর্জ ডব্লিও বুশ- ইরাকে,আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া কি ভুল করেও একবার বলেছিল? সে একজন খ্রিষ্টান টেরোরিস্ট...???
৭ । এখন মায়ানমারে লক্ষ লক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, উচ্ছেদ করছে! অং সান সুচি মুসলিম হত্যা'কে বৈধ ঘোষনা করেছে। তবুও কোনো মিডিয়া বলে না বৌদ্ধরা টেরোরিস্ট।
 ইতিহাস সাক্ষী,,, পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বড় গনহত্যা করেছে নন মুসলিমরা।
 আর এরাই দিন-রাত গণতন্ত্র জপে মুখে ফেনা তুলে।
 অথচ এদের দ্বারাই মানবতা লুন্ঠিত হয়েছিলো এবং হইতেছে।

(ক) যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
(খ) যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
(গ) যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
 (ঘ) যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
 (ঙ) যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড-ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
(চ) যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল। যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিল এবং তাদের মৃতদেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তারা কি মুসলিম ছিলো???
মার্কুলনী এ খ্রিষ্ঠান সন্ত্রাসী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদে বন্দুক দিয়ে গুলি করে একের পর এক 69 জন মুসলিম মুসল্লিকে হত্যা করেছে অথচ মিডিয়া একবার ও বলেনি সে খ্রিষ্ঠান জঙ্গী৷
 উত্তর হবে-এসব মহাসন্ত্রাসী ও অমানবিক কার্যকলাপের সাথে মুসলমানরা কখনো জড়িত ছিলনা। আপনাকে সন্ত্রাসের সংজ্ঞা,, সঠিকভাবে করতে হবে।
যখন কোন অমুসলিম কোন খারাপ কাজ করে, তখন এটাকে বলা হয় অপরাধ!
 আর যখন কোন মুসলিম একই খারাপ কাজ করে, তখন এটাকে বলা হয় ইসলামীয় জঙ্গীবাদ!!
আজ মায়ানমারে তো কোন জঙ্গীবাদ দেখিনা৷আপনারা বলুন, সেই জঙ্গীবাদের জন্মদাতা কারা? আসলে এই জঙ্গীবাদের প্রকৃত মদদ দাতা কে? মতামত পেশ করুন। Respected Brothershood all over the country! Peace be upon thy all with safety by the blessing of Allah. You know the best in the matter of political massacre of Anson suchi. She is fully involved in the brokery of western Criminal policy. We are Muslim. Our have affinity,s relation for one another. A Muslim is properly brother for each other muslim like the building concrets according to the Prophet ( peace be upon him) hadith.Anson suchi is the enemy of muslim. There is being begun brutality and cruelty after the gaining of rulling power of Anson suchi. She is real war criminal because Anson suchi has violated the democratic rules to be involved in anti muslim culture and their religious freedom. She has escaped of her illegal sovereignty power against muslim ummah. What Will I describe of her brutality and cruelty in miyanmar? Anson suchi is properly barbarian and scandal traitor anti the civilization of world citizen,s unity. America is being given leadership against muslim to support the prime minister of Myanmar.there are many Rhuingga Muslim in Myanmar. There should be state rights and human rights as a citizen all for rhuingga muslim. They are wanting citizen rights furlong days but the state authority of miyanmar, they are not giving of their citizen rights. Where is world human rights commission? To day Why are they silent to see the massacre actions of Mianmar military forces? The Natural sights and the trees are crying to see the killing mission of Anson suchi. Each citizen can live in safety and peace in every country.It is their fundamental rights to be citizen on the basis of constitutional law. Where is UN ? Why do they not take a necessary action against miyanmar. It is not strongest country like the western other countries. We are following above the cruelty and brutality,s picture by miyanmar military forces. They are raping of our mothers and sisters unjustly because rhuingga muslim people are to be muslim.It is their wrong doing because They are real muslim. We are bangali. Our have admiration and tradition all over the world. There are many non muslim in Bangladesh. They are living in Bangladesh with peacefully and safety to get the citizen ship like us but also We are not ignoring to their human rights and citizen rights. It is followed by the above picture " Many rhuingga muslim are being oppressed by miyanmar military forces. We are the strongest all over the country. We will have to gain say against Anson suchi,s masssacre. She is properly the enemy of world civilization.She should be punished exmplary like the punishment of war criminals. Buddohist religion is fully fake synod.We notify odious to buddohism. They always talk to the nation" It is the biggest sin to kill animal but They are killing of Ruingga muslim.Where is their moral teaching? Anson suchi is fully Brothel,s woman in her polical career and scandal movement. We are muslim. We are giving of religious rights of Buddohist crowds. We have never tyrranized any Buddohist in our Bangladesh. We convene to UN to nulify the Nobel prize of Anson suchi for the peacing . She is not qualified to get the nobel prize for the peace and the safety by the UN authority. Anson suchi is really a bastard and brothel,s woman on her taking birth. Her life must be scandalized for her massacre and brutality activities anti Muslim Millat.

Written by:
{Mufti Shaikh S.M Nurul Islam Nokshabandi-Mujaddedi from the Sylhet in Bangladesh}
Dated in 13/05/2019 on Monday.

শনিবার, ১১ মে, ২০১৯

এক নজরে হযরত আলী রা. এর নুরানী মর্যাদা সম্পর্কে সহীহ 69 টি হাদিস

যারা মওলায়ে শেরে খোদা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বে-হক্ব বা বাতিল জানবে তারা সবাই কাফের ও এদের স্ত্রী তালাক হবেঃ
{বর্তমান বিশ্বের 70% আলেম জাহিল,মুনাফিক ও বাদাইম্মা কাফের৷সওদী ওহাবী আলেমরা ও কাফের}
এক নজরে হযরত আলী রা. এর নুরানী মর্যাদা সম্পর্কে সহীহ 69 টি হাদিস নিম্নে উপস্থাপন করলামঃ

১. মুমিনদের আমলনামার শিরোনাম রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋُﻨْﻮَﺍﻥُ ﺻَﺤِﻴﻔَﺔِ ﺍﻟْﻤُﺆﻣِﻦِ ﺣُﺐُّ ﻋَﻠِﻲِّ ﺑْﻦِ ﺃََﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ .
মুমিনের আমলনামার শিরোনাম হলো আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা।
(আল মানাকিব – ইবনে মাগাযেলী: ২৪৩/২৯০, কানযুল উম্মাল ১১:৬০১/৩২৯০০, তারীখে বাগদাদ : ৪:৪১০)
২. আরবের সরদার
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻧَﺎ ﺳَﻴِّﺪُ ﻭُﻟْﺪِ ﺁﺩَﻡ، ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﺳَﻴِّﺪُ ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ .
আমি আদম সন্তানদের সরদার আর আলী আরবদের সরদার।
(আল মু’জামুল আওসাত-তাবারানী ২:২৭৯/১৪৯১, ইমাম আলী (আঃ) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির ২:২৬২/৭৮৯, কানযুল উম্মাল-১১-১৮/
৩৩০০৬)।
৩. হিকমতের দরজা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻧَﺎ ﺩَﺍﺭُ ﺍﻟْﺤِﻜْﻤَﺔِ، ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﺑَﺎﺑُﻬَﺎ .
আমি হিকমতের গৃহ আর আলী তার দরজা।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৭/৩৭২৩, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৪, আল জামিউস্ সাগীর ১:৪১৫/২৭০৪)
৪. জ্ঞানের নগরীর দরওয়াযা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻧَﺎ ﻣَﺪِﻳﻨَﺔُ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻭَ ﻋَﻠﻲُّ ﺑَﺎﺑُﻬَﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ ﻓَﻠْﻴَﺄﺕِ ﺍﻟﺒَﺎﺏَ .
আমি সমস্ত জ্ঞানের নগরী আর আলী তার তোরণ। কাজেই যে এই নগরীতে প্রবেশ করবে তাকে তোরণ বা দ্বারের মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৬-১২৭, জামেউল উসুল ৯:৪৭৩/৬৪৮৯, উসুদুল গবাহ্ ৪:২২, তারীখে বাগদাদ ১১:৪৯-৫০, আল বেদায়াহ্ ওয়ান নেহায়া ৭:৩৭২, আল জামেউস্ সাগীর ১:৪১৫/২৭০৫)
৫. উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺍُﻣَّﺘِﻲ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﻋَﻠِﯽُّ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ .
আমার পরে আলী হলো আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৭৭, আল ফেরদৌস ১:৩৭০/১৪৯১)
৬. মহানবী (সা.)-এর ভাই
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
ﺃَﻧْﺖَ ﺃَﺧِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَ ﺍﻟْﺎَﺧِﺮَﺓ .
তুমি দুনিয়া এবং পরকালে আমার ভাই।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭২০, আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১২৪)
৭. রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর মনোনীত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻣَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﻳَﺎ ﻋَﻠِﻲّ، ﺃَﻧْﺖَ ﺻَﻔِﻴِّﻲ ﻭَ ﺃﻣِﻴﻨِﻲ .
আর তুমি হে আলী! তুমি আমার মনোনীত এবং আমার আমানতদার।
(খাসায়েসে নাসায়ী : ১৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৫৬)
৮. মহানবী (সা.)-এর স্থলাভিষিক্ত
হুজুর (সা.) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ
ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﺃَﺧِﻲ ﻭَ ﻭَﺻِﻴِّﻲ ﻭَ ﺧَﻠِﻴﻔَﺘِﻲ ﻓِﻴﻜُﻢْ، ﻓَﺎﺳْﻤَﻌُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﻩ .
জেনে রেখো যে, সে তোমাদের মাঝে আমার ভাই, উত্তরসূরি এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।
(তারীখে তাবারী ২:২১৭, আল কামিল ফিত্ তারীখ ২:৬৪, মাআলিমুত্ তানযীল ৪:২৭৮)
৯. মুমিনদের অভিভাবক
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇﻥَّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻭَﻟِﻴُّﻜُﻢْ ﺑَﻌْﺪِﻱ .
নিশ্চয় আলী আমার পরে তোমাদের অভিভাবক।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১২/৩২৯৬৩, আল ফেরদৌস ৫:২৯২/৮৫২৮)
১০. বিচারের সিংহাসনে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻗْﻀَﻲ ﺍُﻣَّﺘِﻲ ﻋَﻠﻲُّ .
আলী আমার উম্মতের মাঝে সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ বিচারক
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৬৭, মানাকিবে খারেযমী ৩০, যাখায়িরুল উকবা ৮৩)
১১. উম্মতের জন্য হুজ্জাত বা দলিল
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻧَﺎ ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﺣُﺠَّﺔٌ ﻋَﻠَﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ .
কেয়ামতের দিন আমি এবং আলী আমার অনুসারীদের জন্য হুজ্জাত (দলিল) এবং পথপ্রদর্শনকারী।
(তারীখে বাগদাদ ২:৮৮)
১২. মহানবী (সা.)-এর একই বংশধারা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻧَﺎ ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣِﻦْ ﺷَﺠَﺮَﺓٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ، ﻭَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻣِﻦْ ﺃﺷْﺠَﺎﺭٍ ﺷَﺘَّﻲ .
আমি আর আলী একই বৃক্ষ থেকে, আর অন্যেরা (মানুষ) বিভিন্ন বৃক্ষ থেকে।
(আল মানাকিব – ইবনে মাগাযেলী :৪০০/৫৩, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৮/ ৩২৯৪৩, আল ফেরদৌস ১: ৪৪/১০৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১০০)
১৩. উম্মতের হেদায়াতকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃﻧَﺎ ﺍﻟْﻤُﻨْﺬِﺭُ ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﺍﻟْﻬَﺎﺩِﻱ، ﺑِﻚَ ﻳَﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ﻳَﻬْﺘَﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ .
আমি হলাম সাবধানকারী। আর হে আলী! তোমার মাধ্যমে পথ অন্বেষণকারীরা পথ খুঁজে পাবে।
(তাফসীরে তাবারী ১৩:৭২, ইমাম আলী (আ.) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির ২:৪১৭/৯২৩)
১৪. জাতির পথ-প্রদর্শক
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
ﺃﻧْﺖَ ﺗُﺒَﻴِّﻦُ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻲ ﻣَﺎ ﺍﺧْﺘَﻠَﻔُﻮﺍ ﻓِﻴﻪِ ﺑَﻌْﺪِﻱ .
আমার পরে আমার উম্মত যে বিষয়ে মতবিরোধ করবে তুমি তার সমাধান দান করবে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২২, কানযুল উম্মাল ১১:৬১৫/৩২৯৮৩, আল ফেরদৌস ৫:৩৩২/৮৩৪৯, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৪)
১৫. মহানবী (সা.)-এর থেকে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃﻧْﺖَ ﻣِﻨِّﻲ ﻭَ ﺃَﻧَﺎ ﻣِﻨْﻚَ .
তুমি আমা থেকে আর আমি তোমা থেকে।
(সহীহ বুখারী ৪:২২, ৫:৮৭, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৫/৩৭১৬, মাসাবিহুস সুন্নাহ ৪:১৭২/৪৭৬৫ ও ১৮৬/১০৪৮, তারীখে বাগদাদ ৪:১৪০)
১৬. মুমিনদের কর্তৃত্বের অধিকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
ﺃﻧْﺖَ ﻭَﻟِﻲُّ ﻛُﻞِّ ﻣُﺆﻣِﻦٍ ﻭَ ﻣُﺆﻣِﻨَﺔٍ ﺑَﻌْﺪِﻱ .
আমার পরে তুমি প্রত্যেক মুমিন নর ও নারীর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪, আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১২:৭৮/১২৫৯৩)
১৭. আদর্শের পথে শহীদ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
ﺃﻧْﺖَ ﺗَﻌِﻴْﺶُ ﻋَﻠَﻲ ﻣِﻠَّﺘِﻲ، ﻭَ ﺗُﻘْﺘَﻞُ ﻋَﻠَﻲ ﺳُﻨَّﺘِﻲ .
তুমি আমার পন্থায় জীবন যাপন করবে, আর আমার আদর্শের পথেই শাহাদাত বরণ করবে।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৭/৩২৯৯৭, আল মুস্তাদরাক-হাকেম :৩/১৪২)
১৮. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇِﻥَّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻣِﻨِّﻲ، ﻭَ ﺃََﻧَﺎ ﻣِﻨْﻪُ، ﻭَ ﻫُﻮَ ﻭَﻟِﻲُّ ﻛُﻞِّ ﻣُﺆﻣِﻦٍ ﺑَﻌْﺪِﻱ .
নিশ্চয় আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে। আর সে আমার পরে সকল মুমিনের নেতা।
(খাসায়েসে নেসায়ী :২৩, মুসনাদে আহমাদ ৪:৪৩৮, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী
১৮: ১২৮/২৬৫, হিল্লীয়াতুল আউলিয়া ৬:২৯৬)
১৯. মহানবী (সা.)-এর হারুন
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলী (আ.) কে বলেনঃ
ﺃﻧْﺖَ ﻣِﻨِّﻲ ﺑِﻤَﻨْﺰِﻟَﺔِ ﻫَﺎﺭُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﻣُﻮﺳَﻲ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻧَﺒِﻲَّ ﺑَﻌْﺪﻱ .
আমার নিকট তুমি মুসার কাছে হারুনের ন্যায়। শুধু আমার পরে কোনো নবী নেই।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৪১/৩৭৩০, মাসাবিহুস্ সুন্নাহ ৪:১৭০/৪৭৬২, সহীহ মুসলিম ৪:৪৪/৩০)
২০. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﺑْﺸِﺮْ ﻳَﺎ ﻋَﻠِﻲُّ، ﺣَﻴَﺎﺗُﻚَ ﻣَﻌِﻲ ﻭَ ﻣَﻮﺗُﻚ ﻣَﻌِﻲ .
হে আলী! সুসংবাদ তোমার ওপর। তোমার জীবন আমার সাথে আর তোমার মরণও আমার সাথে।
(ইমাম আলী (আ.)-ইবনে আসাকির ২:৪৩৫, ৯৪৭, মাজমাউয যাওয়াযেদ ৯:১১২, কানযুল উম্মাল ১৩: ১৪৪/৩৬৪৫৩)
২১. সর্বপ্রথম নামাযী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃََﻭَّﻝُ ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻲ ﻣَﻌِﻲ ﻋَﻠِﻲٌّ .
সর্বপ্রথম আমার সাথে যে নামায পড়েছে সে হলো আলী।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯২, আল ফেরদৌস ১:২৭/৩৯)
২২. শ্রেষ্ঠতম পুরুষ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺧَﻴْﺮُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻜُﻢْ ﻋَﻠِﻲُّ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ .
আলী ইবনে আবি তালিব তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম পুরুষ।
(তারীখে বাগদাদ ৪:৩৯২, মুন্তাখাবু কানযুল উম্মাল ৫:৯৩)
২৩. উম্মতের পিতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺣَﻖُّ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻋَﻠَﻲ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﺣَﻖُّ ﺍﻟﻮَﺍﻟِﺪِ ﻋَﻠَﻲ ﺍﻟْﻮَﻟَﺪِ .
মুসলমানদের ওপর আলীর অধিকার, সন্তানের ওপর পিতার অধিকারের ন্যায়।
(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ ৩:১৩০, ইমাম আলী – ইবনে আসাকির ২:২৭২/৭৯৮-৭৯৯)
২৪. ইবাদতের সারসত্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺫِﻛْﺮُ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻋِﺒَﺎﺩَﺓٌ .
আলীকে স্মরণ করা ইবাদততুল্য।
(কানযুল উম্মাল ১১, ৬০১/৩২৮৯৪, আল ফেরদৌস ২:২৪৪/৩১৫১, ওসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ: ৫ আল কাসাম ২:১৬৮)
২৫. মজলিসের সৌন্দর্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺯَﻳِّﻨُﻮﺍ ﻣَﺠَﺎﻟِﺴَﻜُﻢْ ﺑِﺬِﻛْﺮِ ﻋَﻠِﻲٍّ .
তোমাদের মজলিসগুলোকে আলীর নাম উচ্চারণের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করো।
(আল মানাকিব – ইবনুল মাগাযেলী : ২১১/২৫৫)
২৬. সর্বদা সত্যের সাথে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺭَﺣِﻢَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠِﻴّﺎً ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﺩِﺭِ ﺍﻟْﺤَﻖَّ ﻣَﻌَﻪُ ﺣَﻴْﺚُ ﺩَﺍﺭَ .
আল্লাহ আলীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন! হে আল্লাহ! আলী যেখানেই আছে সত্যকে তার সাথে ঘোরাও।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৩/৩৭১৪, ইমাম আলী (আ.) – ইবনে আসাকির, ৩:১৫১/১১৬৯-১১৭০)
২৭. রাসূলুললাহ (সা.)-এর গোপন রহস্যের আধার
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺻَﺎﺣِﺐُ ﺳِﺮِّﻱ ﻋَﻠِﻲُّ ﺍﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ .
আলী আমার গোপন রহস্যকথার একমাত্র আধার
(আল ফেরদৌস ২:৪০৩/৩৭৯৩, আল ইমাম আলী (আ.) – ইবনে আসাকির ২:৩১১/৮২২)
২৮. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জ্ঞানের ভান্ডার
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺧَﺎﺯِﻥُ ﻋِﻠْﻤِﻲ .
আলী আমার জ্ঞানের ভান্ডার।
(শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ৯:১৬৫)
২৯. সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺒَﺮِﻳَّﺔِ .
আলী সৃষ্টিকুলের সেরা।
(আল ইমাম আলী (আ.) – ইবনে আসাকির ২:৪৪৩/৯৫৯, মানাকিবে খারেযমী : ৬২)
৩০. মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺒَﺸَﺮِ، ﻣَﻦْ ﺃَﺑَﻲ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ .
আলী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, যে তা মানবে না সে নিঃসন্দেহে কাফের।
(সিয়ারু আ’লামুন নুবালা ৮:২৫০, ইমাম আলী (আঃ)-ইবনে আসাকির ২:৪৪৪/৯৬২-৯৬৬, তারীখে বাগদাদ ৭:৪২১)
৩১. জ্ঞানের আধার
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻋَﻴْﺒَﺔُ ﻋِﻠْﻤِﻲ .
আলী আমার জ্ঞানের আধার।
(আল জামেউস্ সাগীর ২:১৭৭, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ৯:১৬৫)
৩২. সর্বদা কুরআনের সাথে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻭَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻣَﻊَ ﻋَﻠِﻲٍّ .
আলী কুরআনের সাথে আর কুরআন আলীর সাথে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১২)
৩৩. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣِﻨِّﻲ ﺑِﻤَﻨْﺰِﻟَﺔِ ﺭَﺃﺳِﻲ ﻣِﻦْ ﺑَﺪَﻧﻲ .
আমার নিকটে আলী আমার শরীরে যুক্ত আমার মাথার ন্যায়।
(তারীখে বাগদাদ ৭:১২, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১৪)
৩৪. আল্লাহর নিকটে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣِﻨِّﻴﻜَﻤَﻨْﺰِﻝﻲِﺗَ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻲ .
আমার নিকটে আলীর মর্যাদা হলো যেমন আমার প্রতিপালকের নিকটে আমার মর্যাদা।
(আস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা :১৭৭, যাখায়িরুল উক্বা : ৬৪)
৩৫. কেয়ামতের দিন বিজয়ী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻭَ ﺷِﻴﻌَﺘُﻪُ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻔَﺎﺋِﺰُﻭﻥَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ .
আলী এবং তাঁর অনুসারীরা নিঃসন্দেহে কেয়ামতের দিন বিজয়ী।
(আল ফেরদৌস ৩:৬১/৪১৭২, ওয়াসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ:৫, আল কিস্ম ২:১৭০)
৩৬. বেহেশতের তারকা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻳَﺰْﻫَﺮُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻛَﻜَﻮْﻛَﺐِ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢِ ﻟِﺄَﻫْﻞِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ .
আলী বেহেশতের মধ্যে দুনিয়াবাসীর জন্য ভোরের তারকার ন্যায় উজ্জ্বল।
(আল ফেরদৌস ৩:৬৩/৪১৭৮, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৪/৩২৯১৭)
৩৭. তাকে কষ্ট দিও না
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻣَﻦْ ﺁﺫَﻱ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻓَﻘَﺪْ ﺁﺫَﺍﻧِﻲ .
যে ব্যক্তি আলীকে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয়।
(মুসনাদে আহমাদ ৩:৪৮৩, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২২, দালায়িলুন নব্যুওয়াত ৫:৩৯৫, আল ইহ্সান- ইবনে হাববান ৯:৩৯/৬৮৮৪)
৩৮. আল্লাহর অস্তিত্বে মিশে আছে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻟَﺎﺗَﺴُﺒُّﻮﺍ ﻋَﻠِﻴّﺎً، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣَﻤْﺴُﻮﺱٌ ﻓِﻲ ﺫَﺍﺕِ ﺍﻟﻠﻪِ .
তোমরা আলীকে গালমন্দ করো না। সে আল্লাহর সত্তায় মিশে গেছে্
(আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ১৯:১৪৮/৩২৪, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৮, কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০১৭)
৩৯. মুনাফিকরা তাঁকে ভালোবাসে না
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻣُﻨَﺎﻓِﻖٌ، ﻭَ ﻻَ ﻳُﺒْﻐِﻀُﻪُ ﻣُﺆﻣِﻦٌ .
মুনাফিকরা আলীকে ভালোবাসে না, আর মুমিন তাঁকে ঘৃণা করে না।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৫/৩৭১৭, আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৮৯)
৪০. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হক (অধিকার) পূরণকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣِﻨِّﻲ ﻭَ ﺃَﻧَﺎﻣِﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺆَﺩِّﻱ ﻋَﻨِّﻲ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﻠِﻲٌّ .
আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে, আমি আর আলী ব্যতীত কেউই আমার (রেসালাতের) অধিকার পূরণ করেনি।
(মাসাবিহুস সুন্নাহ ৪:১৭২/৪৭৬৮, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭১৯, মুসনাদে আহমাদ ৪:১৬৪)
৪১. মুসলমানদের সরদার
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺳَﻴِّﺪُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ، ﻭَ ﺇِﻣَﺎﻡُ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ، ﻭَ ﻗَﺎﺋِﺪُ ﺍﻟْﻐُﺮِّ ﺍﻟْﻤُﺤَﺠَّﻠِﻴﻦَ .
আলী মুসলমানদের সরদার, পরহেযগারদের নেতা এবং সফলকামদের পথ প্রদর্শক।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৮, আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ১০৪/১৪৬)
৪২. নাজাত দানকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺣُﺐُّ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺑَﺮَﺍﺀَﺓٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ .
আলীর প্রতি ভালোবাসা আগুন থেকে মুক্তির কারণ।
(আল ফেরদৌস ২:১৪২/২৭২৩)
৪৩. ঈমানে সর্বাপেক্ষা অবিচল
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻖُ ﺍﻟْﺎَﻛْﺒَﺮُ، ﻭَ ﻓَﺎﺭُﻭﻕُ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺎُﻣَّﺔِ، ﻭَ ﻳَﻌْﺴُﻮﺏُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ .
আলী ঈমানে সর্বাপেক্ষা দৃঢ়পদ, উম্মতের মধ্যে হক ও বাতিলে পার্থক্যকারী আর মুমিনদের কর্তা।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯০, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ৬:২৬৯/৬১৮৪)
৪৪. তাঁকে অভিসম্পাত করো না
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻣَﻦْ ﺳَﺐَّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻓَﻘَﺪْ ﺳَﺒَّﻨِﻲ .
যে ব্যক্তি আলীকে গালমন্দ করে সে যেন আমাকেই গালি দিল।
(মুখতাসারু তারীখে দামেস্ক – ইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩৬৬, ফাযায়েলুস সাহাবা ২:৫৯৪/
১০১১, খাসায়েসে নাসায়ী :২৪, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২১, মানাকিবে খারেযমী : ৮২)
৪৫. আল্লাহর রাস্তায় কঠোরতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﻟَﺎ ﺗَﺸْﻜُﻮﺍ ﻋَﻠِﻴّﺎً، ﻓَﻮ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺄَﺧْﺸَﻦُ ﻓِﻴﺬَﺍﺗِﺎﻟﻠﻪِ، ﺃَﻭْ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ .
হে লোকসকল! আলীর বিরুদ্ধে নালিশ করতে যেও না। সে আল্লাহর কারণে অথবা তাঁর সন্তুষ্টির জন্যেই কঠোর হয়।
(মুসনাদে আহমাদ ৩:৮৬, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪)
৪৬. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নজির
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻧَﺒِﻲٍّ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَ ﻟَﻪُ ﻧَﻈِﻴﺮٌ ﻓِﻲ ﺍُﻣَّﺘِﻪِ ﻭَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﻧَﻈِﻴﺮِﻱ .
এমন কোনো নবী নেই যার উম্মতের মধ্যে তাঁর দৃষ্টান্ত কেউ ছিল না। আর আমার দৃষ্টান্ত হলো আলী ইবনে আবি তালিব।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১২০, যাখায়েরুল উকবা: ৬৪)
৪৭. পাপ ধ্বংসকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺣُﺐُّ ﻋَﻠِﻲِّ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ ﻳَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ ﺍﻟْﺤَﻄَﺐَ .
আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা পাপসমূহকে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।
(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ ৩: ১৯০, কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০২১, আল ফেরদৌস ২:১৪২/২৭২৩)
৪৮. অন্তরসমূহের কা’বাস্বরূপ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম আলী (আ.) কে বলেনঃ
ﺃَﻧْﺖَ ﺑِﻤَﻨْﺰِﻟَﺔِ ﺍﻟْﻜَﻌْﺒَﺔِ ﺗُﺆْﺗَﻲ ﻭَ ﻟَﺎﺗَﺄﺗِﻲ .
তুমি কা’বার ন্যায়। সবাই তোমার কাছে আসে কিন্তু তুমি কারো কাছে যাও না।
(উসুদুল গবাহ ৩১৪৬)
৪৯. তার দিকে তাকাও…
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
َﺍﻟﻨَّﻈَﺮُ ﺇِﻟَﻲ ﻭَﺟْﻪِ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻋِﺒَﺎﺩَﺓٌ .
আলীর মুখের দিকে তাকানো ইবাদত।
(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২০৬/২৪৪-২৪৬ ও ২০৯/২৪৮-২৪৯ ও ২১০/২৫২-২৫৩, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৪২, আর রিয়াদুন্ নাদ্রাহ ৩:১৯৭)
৫০. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওয়াসী
রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ
ﻫَﺬَﺍ ﺃَﺧِﻲ ﻭَ ﻭَﺻِﻴِّﻲ ﻭَ ﺧَﻠِﻴﻔَﺘِﻲ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻱ، ﻓَﺎﺳْﻤَﻌُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﻩ .
এ হলো আমার ভাই, আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলীফা। তার নির্দেশের প্রতি কর্ণপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।
(তারীখে তাবারী ২:৩৩১, মাআলিমুত তানযীল ৪:২৭৯, আল কামিল ফিত তারীখ ২:৬৩, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ১৩:২১১, কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)
৫১. ফেরেশতাকুলের দরূদ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇﻥَّ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِِﻜَﺔَ ﺻَﻠَّﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭ ﻋَﻠَﻲ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺳَﺒﻊَ ﺳِﻨِﻴْﻦَ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﺴْﻠِﻢَ ﺑَﺸَﺮٌ .
কোনো মানুষ মুসলমান হওয়ার সাত বছর পূর্ব থেকেই ফেরেশতারা আমার এবং আলীর ওপর দরূদ পাঠাতো।
(কানযুল উম্মাল ১১: ৬১৬/৩২৯৮৯, মুখতাসারু তারীখে দামেস্ক -ইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩০৫)
৫২. ঈমানের মানদন্ড
রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (আ.) কে বলেনঃ
ﻟَﻮْﻟَﺎﻙَ ﻣَﺎ ﻋُﺮِﻑَ ﺍﻟْﻤُﺆﻣِﻨُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻱ .
যদি তুমি না থাকতে তাহলে আমার পরে মুমিনদের শনাক্ত করা যেত না।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৭৩, আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী :৭০/১০১, কানযুল উম্মাল ১৩ :১৫২/৩৬৪৭৭)
৫৩. সর্বদা সত্যের সাথে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ﻭَ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻣَﻊَ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﻟَﻦْ ﻳَﻔْﺘَﺮِﻗَﺎ ﺣَﺘَّﻲ ﻳَﺮِﺩَﺍ ﻋَﻠَﻲَّ ﺍﻟْﺤَﻮﺽِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ .
আলী সত্যের সাথে আর সত্য আলীর সাথে, এই দুটো কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না কেয়ামতের দিন হাউজে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হবে।
(তারীখে বাগদাদ ১৪:৩২১, ইমাম আলী (আঃ).) – ইবনে আসাকির ৩:১৫৩/১১৭২)
৫৪. তাঁর থেকে পৃথক হয়ো না!
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻣَﻦْ ﻓَﺎﺭَﻕَ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻓَﻘَﺪْ ﻓَﺎﺭَﻗَﻨِﻲ ﻭَ ﻣَﻦْ ﻓَﺎﺭَﻗَﻨِﻲ ﻓَﻘَﺪْ ﻓَﺎﺭَﻕَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞَّ .
যে ব্যক্তি আলী থেকে পৃথক হয় সে আমা থেকে পৃথক হলো আর যে আমা থেকে পৃথক হলো সে মহান আল্লাহ থেকে পৃথক হয়ে গেল।
(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২৪০/২৮৭, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, আল মু’জামুল কাবীর- তাবারানী ১২:৩২৩/১৩৫৫৯)
৫৫. মহানবী (সা.)-এর জ্ঞানের দরওয়াযা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻋَﻠِﻲٌّ ﺑَﺎﺏُ ﻋِﻠْﻤِﻲ، ﻭَ ﻣُﺒَﻴِّﻦُ ﻟِﺎُﻣَّﺘِﻲ ﻣَﺎ ﺍُﺭْﺳِﻠْﺖُ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪﻱِ، ﺣُﺒُّﻪُ ﺍِﻳﻤَﺎﻥٌ، ﻭ ﺑُﻐْﻀُُﻪُ ﻧِﻔَﺎﻕٌ ﻭَ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮُ ﺍِﻟَﻴْﻪِ ﺭَﺃْﻓَﺔٌ .
আলী আমার জ্ঞানের দরওয়াযা। সে আমার পরে আমার রেসালাতকে আমার উম্মতের জন্যে ব্যাখ্যা করবে। তাকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক, তাকে ঘৃণা করা মুনাফিকের পরিচায়ক এবং তার দিকে তাকানো প্রশান্তির কারণ।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৮১, আল ফেরদৌস ৩:৬৫/৪১৮১)
৫৬. আল্লাহর গোপন রহস্য ব্যক্তকারী
জাবের বলেনঃ তায়েফের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে কাছে ডাকলেন। তাঁকে একপাশে নিয়ে কানে কানে যুক্তি করলেন। লোকজন বললো, ‘‘তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সাথে যুক্তি করা কতো দীর্ঘায়িত হলো!’’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন :
ﻣَﺎ ﺍَﻧْﺘَﺠَﻴْﺘُﻪُ ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻧْﺘَﺠَﺎﻩُ .
আমি তাঁর সাথে যুক্তি করিনি, বরং আল্লাহ তাঁর সাথে যুক্তি করেছেন।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৭০, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৯/৩৭২৬, খাসায়েসে নাসায়ী :৫, ফাযায়েলূস সাহাবা ২:৫৬০/৯৪৫, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩০-১৩২)
৫৭. মুমিনদের মাওলা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻣَﻦْ ﻛُﻨْﺖُ ﻣَﻮْﻟَﺎﻩُ ﻓَﻌَﻠِﻲٌّ ﻣَﻮْﻟَﺎﻩُ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻭَﺍﻝِ ﻣَﻦْ ﻭَﺍﻟَﺎﻩُ ﻭَﻋَﺎِﺩ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﺍﻩُ .
আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালোবাসে তুমি তাকে ভালোবাস আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করে তুমি তার সাথে শত্রুতা করো।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৯/৩২৯৫০, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১০৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১০৪, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ৪:১৭৩/৪০৫৩, তিরমিযী ৫:৬৩৩/৩৭১৩, মুসনাদে আহমাদ ১:৮৪, ৮৮, ১১৯, ১৫২, ৩৩১ ও ৪:২৮১, ৩৬৮, ৩৭০, ৩৭২ ও ৫:৩৪৭, ৩৫৮, ৩৬১, ৩৬৬, ৪১৯)
৫৮. তোমার জন্য সেটাই চাই!
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻳَﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ! ﺇِﻧِّﻲ ﺍُﺣِﺐُّ ﻟَﻚَ ﻣَﺎ ﺍُﺣِﺐُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻲ، ﻭَ ﺃَﻛْﺮَﻩُ ﻟَﻚَ ﻣَﺎ ﺃَﻛْﺮَﻩُ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻲ .
হে আলী! আমি নিজের জন্যে যা পছন্দ করি তোমার জন্য সেটাই পছন্দ করি। আর আমার চোখে যা অপছন্দনীয় তোমার জন্যও সেটা অপছন্দ করি।
(মুসনাদে আহমাদ ১:১৪৬, সুনানে তিরমিযী ২:৭২/২৮২, আল মুনাতাখাবু মিন মুসনাদে আব্দু ইবনে হামীদ :৫২/৬৭)
৫৯. বেহেশত-দোযখের বণ্টনকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻳَﺎ ﻋَﻠِﻲُّ، ﺇِﻧَّﻚَ ﻗَﺴِﻴﻢُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺗَﻘْﺮَﻉُ ﺑَﺎﺏَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻓَﺘَﺪْﺧُﻠَﻬَﺎ ﺑِﻠَﺎ ﺣِﺴَﺎﺏٍ .
হে আলী! তুমি (মানুষকে) বেহেশত ও দোযখের (মধ্যে) বণ্টনকারী। অতঃপর তুমি নিজে বেহেশতের দরওয়াযায় টোকা দিবে এবং হিসাব ছাড়াই প্রবেশ করবে।
(আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী ৬৭/৯৭, আল মানাকিব-খারেযমী : ২০৯, ফারায়িদুস সামতাঈন ১:৩২৫/২৫৩)
৬০. তোমাকে যারা ভালোবাসে তাদের প্রতি সুসংবাদ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻳﺎ ﻋَﻠِﻲّ، ﻃُﻮﺑَﻲ ﻟِﻤَﻦْ ﺃَﺣَﺒَّﻚَ ﻭَ ﺻَﺪَّﻕَ ﻓِﻴﻚَ ﻭَ ﻭَﻳْﻞٌ ﻟِﻤَﻦْ ﺃَﺑْﻐَﻀَﻚَ ﻭَ ﻛَﺬَّﺏَ ﻓِﻴﻚَ .
হে আলী! সুসংবাদ তার প্রতি যে তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমাকে সত্য বলে জানে। আর দুর্ভাগ্য তাদের প্রতি যারা তোমার সাথে শত্রুতা করে এবং তোমার ব্যাপারে মিথ্যা আরোপ করে।
(তারীখে বাগদাদ ৯:৭২, ওয়াসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ:৫, আল কিস্ম ২:১৬১, উসুদুল গবাহ ৪:২৩)
৬১. ওয়াসিগণের মধ্যে সর্বোত্তম
রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত ফাতিমাকে বলেনঃ
ﻭَﺻِﻴِّﻲ ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺄَﻭْﺻِﻴَﺎﺀِ، ﻭَ ﺃَﺣَﺒُّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻲ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﻭَ ﻫُﻮَ ﺑَﻌْﻠُﻚَ .
ওয়াসিগণের মধ্যে আমার ওয়াসীই সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকটে তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়তম। আর সে হলো তোমার স্বামী।
(মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৬৫, যাখায়িরুল উকবা :১৩৬)
৬২. মহানবী (সা.)-এর ভাই ও সহযোগী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇﻧِّﻴﺄَﻗُﻮﻟُﻜَﻢﻮُﻤﻴِﺧَﺄَﻻَﻗﺍَﺳﻲَ : ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﻟِﻴﻮَﺯِﻳﺮﺍً ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻴﺄَﺧِﻴﻌَﻞًﺎّﻳِ ﺍُﺷْﺪُﺩْ ﺑِﻪِ ﺃﺯْﺭِﻱ ﻭَ ﺃَﺷْﺮِﻛْﻪُ ﻓِﻴﺄَﻣْﺮِﻱ ﻛَﻲْ ﻧُﺴَﺒِّﺤَﻚَ ﻛَﺜِﻴﺮﺍً ﻭَ ﻧَﺬْﻛُﺮَﻙَ ﻛَﺜﻴﺮﺍً، ﺇِﻧَّﻚَ ﻛُﻨْﺖَ ﺑِﻨَﺎ ﺑَﺼِﻴﺮﺍً .
হে আল্লাহ! আমিও আমার ভাই মুসার মতো বলছি, ‘‘হে খোদা! আমার জন্য আমার পরিবারের মধ্যে থেকে কাউকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োগ করো। আমার ভাই আলীকে যার দ্বারা আমার শক্তি মজবুত হয়
এবং আমাকে সাহায্য করে। যাতে তোমার মহিমা বর্ণনা করতে সক্ষম
হই এবং তোমার অধিক ইবাদতে নিমগ্ন হতে পারি । অবশ্য তুমি আমাদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১১৮, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৬৭৮/১১৫)
৬৩. নিরাপত্তা এবং ঈমান
রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত আলী (আ.) কে বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﺃَﺣَﺒَّﻚَ ﺣُﻒَّ ﺑِﺎﻻَﻣْﻦِ ﻭَ ﺍﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥِ، ﻭَ ﻣَﻦْ ﺃَﺑْﻐَﻀَﻚَ ﺃَﻣَﺎﺗَﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣِﻴْﺘَﺔَ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ.
যে ব্যক্তি তোমাকে ভালোবাসবে, নিরাপত্তা ও ঈমান তাকে আবিষ্ট করবে। আর যে তোমার প্রতি শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু দান করবেন।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৭/৩২৯৩৫, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ১১:৬৩/১১০৯২)
৬৪. সীরাতুল মুস্তাকীম পার হওয়ার অনুমতি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻭَ ﻧُﺼِﺐَ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁُ ﻋَﻠَﻲ ﺷَﻔِﻴﺮِ ﺟَﻬَﻨَّﻢ ﻟَﻢْ ﻳَﺠُﺰْ ﺇﻻَّ ﻣَﻦْ ﻣَﻌَﻪُ ﻛِﺘَﺎﺏُ ﻋَﻠِﻲّ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ .
যখন কেয়ামত উপস্থিত হবে এবং জাহান্নামের অগ্নিপার্শ্বে পুলসিরাত টাঙ্গানো হবে তখন শুধু কেবল যার সঙ্গে আলী (আ.)-এর পত্র থাকবে সে ছাড়া কারো তা পার হবার অনুমতি থাকবে না।
(আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ২৪২, ২৮৯, ফারায়িদুস সামতাইন ১:২২৮, ২৮৯)
৬৫. আলী (আ.)-এর সহচরদের জন্য দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﻧْﺼُﺮْ ﻣَﻦْ ﻧَﺼَﺮَ ﻋَﻠِﻴّﺎً، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻛْﺮِﻡْ ﻣَﻦْ ﺃَﻛْﺮَﻡَ ﻋَﻠِﻴّﺎً ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃﺧْﺬُﻝْ ﻣَﻦْ ﺧَﺬَﻝَ ﻋَﻠِﻴّﺎً .
হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আলীকে সাহায্য করে তুমি তাকে সাহায্য করো, যে ব্যক্তি তাকে সম্মান করে তুমি তাকে সম্মান করো আর যে তাকে লাঞ্ছিত করে তুমি তাকে লাঞ্ছিত করো।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬২৩/৩৩০৩৩, আল মু’জামুল কাবীর – তাবারানী ১৭:৩৯,৮২)
৬৬. আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা
আনাস ইবনে মালেক বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য মুরগীর গোশত দ্বারা খাবার প্রস্ত্তত করা হয়েছিল। হুজুর (সা.) বললেনঃ
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺋْﺘِﻨِﻲ ﺑِﺎَﺣَﺐِّ ﺧَﻠْﻘِﻚَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻳَﺄْﻛُﻞُ ﻣَﻌِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﻄَّﻴْﺮَ، ﻓَﺠَﺎﺀَ ﻋَﻠِﻲٌّ ﻓَﺄَﻛَﻞَ ﻣَﻌَﻪُ .
হে আল্লাহ! তোমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দাকে পৌঁছে দাও যে আমার সাথে এই মুরগীর গোশত ভক্ষণে অংশ নেবে। এমন সময় আলী এসে পৌঁছলেন এবং হুজুরের দস্তরখানায় বসে পড়লেন।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭২১, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৫৬০/৯৪৫, খাসায়েসে নাসায়ী : ৫, আল মুস্তাদরাক – হাকেম ৩:১৩০-১৩২)
৬৭. হেদায়াতের পতাকা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇِﻥَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ ﻋَﻬِﺪَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﻬْﺪﺍً ﻓِﻲ ﻋَﻠِﻲِّ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻃَﺎﻟِﺐٍ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺇﻧَّﻪُ ﺭَﺍﻳَﺔُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻱ، ﻭَ ﻣَﻨﺎﺭُ ﺍﻟْﺎِﻳْﻤَﺎﻥِ، ﻭَ ﺍِﻣَﺎﻡُ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺋِﻲ، ﻭَ ﻧُﻮﺭُ ﺟَﻤِﻴﻊِ ﻣَﻦْ ﺃَﻃَﺎﻋَﻨِﻲ .
বিশ্ব প্রতিপালক আলীর ব্যাপারে আমার সাথে কঠিনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। অতঃপর আমাকে বলেছেন: নিশ্চয় আলী হলো হেদায়েতের পতাকা, ঈমানের শীর্ষচূড়া, আমার বন্ধুগণের নেতা আর আমার আনুগত্যকারী সকলের জ্যোতিস্বরূপ।
(হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৬, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবীল হাদীদ ৯:১৬৮)
৬৮. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তরসূরি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﻟِﻜُﻞِّ ﻧَﺒِﻲٍّ ﻭَﺻِﻲٌّ ﻭَ ﻭَﺍﺭِﺙٌ، ﻭَ ﺇَِﻥَّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻭَﺻِﻴِّﻲ ﻭَ ﻭَﺍﺭِﺛِﻲ .
প্রত্যেক নবীর ওয়াসী এবং উত্তরসূরি থাকে। আর আমার ওয়াসী এবং উত্তরসূরি হলো আলী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৩৮, আল ফেরদৌস ৩:৩৩৬/৫০০৯, ইমাম আলী (আ.) – ইবনে আসাকির ৩: ৫/১০৩০-১০৩১)
৬৯. সত্যিকারের সৌভাগ্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
ﺇﻥَّ ﺍﻟﺴَّﻌِﻴﺪَ ﻛُﻞَّ ﺍﻟﺴَّﻌِﻴﺪِ، ﺣَﻖَّ ﺍﻟﺴَّﻌِﻴﺪِ، ﻣَﻦْ ﺃﺣَﺐَّ ﻋَﻠِﻴّﺎً ﻓِﻲ ﺣَﻴَﺎﺗِﻪِ ﻭَ ﺑَﻌْﺪَ ﻣَﻮﺗِﻪِ .
নিশ্চয় সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং সত্যিকারের সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আলীকে তার জীবদ্দশায় এবং তার মৃত্যুর পরে ভালোবাসে।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৯১, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৬৫৮/১১২১, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ২২: ৪১৫/১০২৬, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৩২)
লিখিতং
মুফতি শাইখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট৷

তারাবীহ ২০ রাকাত প্রমানিত

২০ রাকাত তারাবীহ সকলের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত হওয়ার প্রমাণ
যা সরাসরি মহান সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈনের ইজমাহ বা ঐক্যমত দ্বারা প্রমানিতঃ

এক নং দলিলঃ
ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহ. (মৃত : ৪৬৩) বলেন,
ﻭَﻫُﻮَ - ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔ - ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢُ ﻋَﻦْ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺧِﻠَﺎﻑٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ .
অর্থ: এটাই সহীহ যে, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব ২০ রাকাত তারাবীহ পড়িয়েছেন। আর তাতে কোন সাহাবী দ্বিমত করেননি। [আল ইসতিযকার ৫/১৫৭]
ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺟُﻤْﻬُﻮﺭِ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟِﺎﺧْﺘِﻴَﺎﺭُ ﻋِﻨْﺪَﻧَﺎ
অর্থ:তিনি আরো বলেন, এটিই (২০ রাকাত তারাবীহ) অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত এবং আমাদের নিকট এটিই পছন্দনীয়। [তারহুত তাছরীব ৩/৯৭]
দুই নং দলিলঃ
ইমাম তিরমিযী রহ. (মৃত : ২৬৯) বলেন,
ﻭَﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻌِﻠْﻢِ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺮَ، ﻭَﻋَﻠِﻲٍّ، ﻭَﻏَﻴْﺮِﻫِﻤَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﻤُﺒَﺎﺭَﻙِ، ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲِّ ﻭﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ < : ﻭَﻫَﻜَﺬَﺍ ﺃَﺩْﺭَﻛْﺖُ ﺑِﺒَﻠَﺪِﻧَﺎ ﺑِﻤَﻜَّﺔَ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
অর্থ: সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত সেটাই যা বর্ণিত আছে হযরত উমর, হযরত আলী রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে। অর্থাৎ ২০ রাকাত। এটিই ইমাম সুফয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক ও শাফেয়ী রহ. এর মত। ইমাম শাফেয়ী বলেন, আমাদের শহর মক্কা মুর্কারামায় আমি এমনটিই পেয়েছি যে, তারা ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। [জামে তিরমিযী ৩/১৬০]
তিন নং দলিলঃ
ইবনে রুশদ মালেকী রহ. (মৃত : ৫৯৫) বলেন,
ﺍﺧْﺘَﺎﺭَ ﻣَﺎﻟِﻚٌ ﻓِﻲ ﺃَﺣَﺪِ ﻗَﻮْﻟَﻴْﻪِ، ﻭَﺃَﺑُﻮ ﺣَﻨِﻴﻔَﺔَ، ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ، ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪُ، ﻭَﺩﺍﻭﺩ : ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻡَ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﺳِﻮَﻯ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ
অর্থ: ইমাম মালেক রহ. এর এক বক্তব্য অনুযায়ী এবং ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফিয়ী, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম দাঊদ এর বক্তব্য হচ্ছে বিতর ছাড়া তারাবীহ ২০ রাকাত। [বিদায়াতুল মুজতাহিদ : ১/২১৯]
চার নং দলিলঃ
ওয়ালী উদ্দিন ইরাকী রহ. (মৃত : ৮২৬) বলেন,
ﻭَﺑِﻬَﺬَﺍ ﺃَﺧَﺬَ ﺃَﺑُﻮ ﺣَﻨِﻴﻔَﺔَ ﻭَﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱُّ ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪُ ﻭَﺍﻟْﺠُﻤْﻬُﻮﺭُ ﻭَﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺷَﻴْﺒَﺔَ ﻓِﻲ ﻣُﺼَﻨَّﻔِﻪِ ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺮَ ﻭَﻋَﻠِﻲٍّ ﻭَﺃُﺑَﻲٍّ ﻭَﺷُﺘَﻴْﺮِ ﺑْﻦِ ﺷَﻜَﻞٍ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻠَﻴْﻜَﺔَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺍﻟْﻬَﻤْﺪَﺍﻧِﻲُّ ﻭَﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﺒَﺨْﺘَﺮِﻱِّ
অর্থ: ২০ রাকাত তারাবীর মতই গ্রহণ করেছেন ইমাম আবু হানীফা, ইমাম সাওরী, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অধিকাংশ উলামা। ইমাম ইবনে আবি শাইবা রহ. ‘আল মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এ মতই বর্ণনা করেছেন হযরত উমর, হযরত আলী, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব, শুতাইর ইবনে শাকাল, ইবনে আবী মুলাইকা, হারেস আল হামদানী ও আবুল বাখতারী থেকে। [তরহুত তাসরীব ৩/৯৭]
পাঁচ নং দলিলঃ
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. (মৃত : ৭২৮) বলেন,
ﺇِﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺛَﺒَﺖَ ﺃَﻥَّ ﺃﺑﻲ ﺑْﻦَ ﻛَﻌْﺐٍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﺜَﻠَﺎﺙِ . ﻓَﺮَﺃَﻯ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥَّ ﺫَﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔُ؛ ﻟِﺄَﻧَّﻪُ ﺃَﻗَﺎﻣَﻪُ ﺑَﻴْﻦ ﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮِﻳﻦَ ﻭَﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺭِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﻨْﻜِﺮْﻩُ ﻣُﻨْﻜِﺮٌ
অর্থ: নিশ্চয় এ কথা প্রমাণিত আছে যে, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব রা. লোকদের (সাহাবা ও তাবিয়ীদের) নিয়ে রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ ও ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। এ জন্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত হচ্ছে এটিই সুন্নত। কারণ, তিনি এ নামাজ পড়িয়েছেন আনসার ও মুহাজির সাহাবীদেরকে নিয়ে, তাদের কেউ এর উপর কোন আপত্তি উত্থাপন করেননি।[মজমূউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৩/১১২]
ছয় নং দলিলঃ
ওহাবী মতবাদের প্রবর্তকের ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব (মৃত : ১২৪২) বলেন,
ﻭﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻟﻤﺎ ﺟﻤﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺃﺑﻲ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﻛﺎﻧﺖ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ
অর্থ: উমর রা. যে তারাবীহ নামাজে উবাই ইবনে কা‘ব রা. এর পিছনে সকলকে একত্রিত করেছিলেন তা ছিল ২০ রাকাত। [মাজমুআতুর রাসাইল ওয়াল মাসাইলিন নাজদিয়্যাহ ১/৯৫]
সাত নং দলিলঃ
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী র. তার ‘আলমিনহাজ’ গ্রন্থে লিখেছেন,
ﺛﻢ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻭﻫﻲ ﻋﺸﺮﻭﻥ ﺭﻛﻌﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺗﻌﻴﻴﻦ ﻛﻮﻧﻬﺎ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺿﻌﻴﻒ ﻟﻜﻦ ﺃﺟﻤﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺭﺽ
অর্থাৎ তারাবী রমযানের প্রত্যেক রাতেই বিশ রাকাত করে। বিশ রাকাতের নির্ণয়ণ একটি দুর্বল হাদীসে আসলেও সাহাবীগণ এর উপর সকলে একমত হয়েছিলেন। ( আল মিনহাজ পৃ ২৪০)
আইম্মায়ে হাদীস থেকে এ ধরণের আরো অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ১১ রাকাত থেকে বেশি তারাবীহ গোটা উম্মাতের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত। আমাদের আলোচ্য ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফার হাদীসটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। অধিকন্তু এর সনদও সহীহ। যা আমরা সামনে বিস্তারিত জবাবের মাধ্যমে পাঠকবৃন্দের নিকট তুলে ধরছি। যা ই হোক,আমাদের হানাফী মাজহাবের প্রবর্তক ইমাম হযরত আবূ হানীফা র. এর চমৎকার বিশ্লেষণ দ্বারা প্রমানিত যে, তারাবীহ নামাজ 20 রাকআত,এতে কোন সন্দেহ নেই৷আর এ 20 রাকআত নামাজই মহান সাহাবায়ে কেরামের ইজমাহ বা ঐক্যমত দ্বারা প্রমানিত৷
ﺭﻭﻯ ﺃﺳﺪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻳﻮﺳﻒ ﻗﺎﻝ : ﺳﺄﻟﺖ ﺃﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻭﻣﺎ ﻓﻌﻠﻪ ﻋﻤﺮ ﻓﻘﺎﻝ : ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﺳﻨﺔ ﻣﺆﻛﺪﺓ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﺨﺮﺻﻪ ﻋﻤﺮ ﻣﻦ ﺗﻠﻘﺎﺀ ﻧﻔﺴﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻴﻪ ﻣﺒﺘﺪﻋﺎ ﻭﻟﻢ ﻳﺄﻣﺮ ﺑﻪ ﺇﻻ ﻋﻦ ﺃﺻﻞ ﻟﺪﻳﻪ ﻭﻋﻬﺪ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻟﻘﺪ ﺳﻦ ﻋﻤﺮ ﻫﺬﺍ ﻭﺟﻤﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺃﺑﻲ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﻓﺼﻼﻫﺎ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻭﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻣﺘﻮﺍﻓﺮﻭﻥ، ﻣﻨﻬﻢ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻋﻠﻲ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻭﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﻭﺍﺑﻨﻪ ﻭﻃﻠﺤﺔ ﻭﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﻭﻣﻌﺎﺫ ﻭﺃﺑﻲ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻬﺎﺟﺮﻳﻦ ﻭﺍﻷﻧﺼﺎﺭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ ﻭﻣﺎ ﺭﺩ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﺣﺪ ﻣﻨﻬﻢ ﺑﻞ ﺳﺎﻋﺪﻭﻩ ﻭﻭﺍﻓﻘﻮﻩ ﻭﺃﻣﺮﻭﺍ ﺑﺬﻟﻚ .
অর্থাৎ আসাদ ইবনে আমর র. ইমাম আবূ ইউসুফ র. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি ইমাম আবূ হানীফা র.কে তারাবীহ ও এ ব্যপারে হযরত উমর রা.এর কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তারাবী সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হযরত উমর রা. অনুমান করে নিজের পক্ষ থেকে এটা নির্ধারণ করেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি। তিনি তাঁর নিকট বিদ্যমান ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত কোন নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই আদেশ প্রদান করেছেন।তাছাড়া হযরত উমর রা. যখন এই নিয়ম চালু করলেন এবং হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা. এর ইমামতিতে লোকদেরকে একত্রিত করলেন, আর উবাই রা.জামাতের সাথে এই নামায আদায় করলেন, তখন বিপুল সংখ্যক সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত উসমান,আলী,ইবনে মাসউদ,আব্বাস, ইবনে আব্বাস, তালহা,যুবায়র, মুআয ও উবাই রাদিয়ল্লাহু আনহুম প্রমুখ মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ ছিলেন। তাঁদের কেউই তাঁর উপর আপত্তি করেননি। বরং সকলেই তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং অন্যদেরও এরই আদেশ দিয়েছেন। (আল ইখতিয়ার লি তালীল মুখতার,১/৭০)
ইসলামী শরীয়তের বিধানে তারাবীহ নামাজ 20 রাকআত কিন্তু আট রাকআতের দাবী পরিপূর্ণ ভ্রান্তঃ
আট নং দলিলঃ
নবম শতকের মুজাদ্দিদ ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি আলাইহির রহমত ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ ﻓﻰ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ‘মাসাবিহ কিতাবের তারাবীহ অধ্যায়ে’ ইমাম বায়হাকী এর বর্ণিত ২০ বিশ রাকআত তারাবীহসংক্রান্ত হাদিস যে সহীহ শুদ্ধ এ সম্বন্ধে আলোকপাত করে সুয়ুতি বলেন-
ﻭﻓﻰ ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﺒﺢ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﺑْﻦِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﻗَﺎﻝَ : " ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
ভাবার্থ: ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ সহীহ শুদ্ধ সনদে সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায পড়তেন।
ইমাম জালালউদ্দিন সুয়ুতি আলাইহির রহমত ‘মাসাবিহ’ এর মধ্যে আরো উল্লেখ করেন-
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺴﺒﻜﻲ ﻓِﻲ ﺷَﺮْﺡِ ﺍﻟْﻤِﻨْﻬَﺎﺝِ : ﺍﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻢْ ﻳُﻨْﻘَﻞْ ﻛَﻢْ ﺻَﻠَّﻰ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺗِﻠْﻚَ ﺍﻟﻠَّﻴَﺎﻟِﻲَ، ﻫَﻞْ ﻫُﻮَ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺃَﻭْ ﺃَﻗَﻞُّ، ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻣَﺬْﻫَﺒُﻨَﺎ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢَ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ; ﻟِﻤَﺎ ﺭَﻭَﻯ ﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻲُّ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻩُ ﺑِﺎﻟْﺈِﺳْﻨَﺎﺩِ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢِ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﺑْﻦِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑِﻲِّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻘُﻮﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻋﻤﺮ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﺍﻟْﻮَﺗْﺮِ، ﻫَﻜَﺬَﺍ ﺫَﻛَﺮَﻩُ ﺍﻟْﻤُﺼَﻨِّﻒُ ﻭَﺍﺳْﺘَﺪَﻝَّ ﺑِﻪِ، ﻭَﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺇِﺳْﻨَﺎﺩَﻩُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻲِّ .
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাম সুবুকি আলাইহির রহমত ‘শরহুল মিনহাজ’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন, হাবিবে খোদা কত রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করেছেন, তার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা সহীহ হাদিস দ্বারা উল্লেখ নেই।
ইমাম সুবুকি রহ. বলেন- আমাদের মাযহাব হলো ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায। দলিল হিসেবে ইমাম বায়হাকী আলাইহির রহমতের ‘সুনানে কুবরা’ বায়হাকী এর বর্ণিত হাদিসখানা দলিলরূপে উপস্থাপন করে বলেন- সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসখানা সহীহ।
রাবী বলেন- আমরা সাহাবায়ে কেরামগণ হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতের সময় ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতাম।’
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত হাদিসকে ইমাম বায়হাকী, ইমাম জালালউদ্দিন সুয়ুতি, ইমাম নিমভী হানাফি, ইমাম সুবুকি, ইমাম নববী গং সহ সকল মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ সহীহ বা বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন যে, হযরত ওমর, হযরত উসমান ও হযরত আলী রেদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন এর যামানায় ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায সাহাবায়ে কেরামগণ আদায় করতেন।
নয় নং দলিলঃ
ঈমাম ইবনে হাজর আসকালানীর অভিমতঃ
হাফিজুল হাদিস ইবনে হজর আসকালানী আলাইহির রহমত ‘ফতহুল বারি শরহে বুখারী’ নামক কিতাবের পঞ্চম জিলদের ৪০৫ পৃষ্ঠায় তারাবীহ অধ্যায়ে ইয়াজিদ ইবনু খুসাইফা থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ মোট চারখানা হাদিস দলিলস্বরূপ উল্লেখ করে, তারাবীহ নামায যে, ২০ বিশ রাকআত, হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকাল থেকে এ পর্যন্ত চলে আসছে উপস্থাপন করেন-
ﻭَﺭَﻭَﺍﻩُ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ ﻣِﻦْ ﻭَﺟْﻪٍ ﺁﺧَﺮَ ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻳُﻮﺳُﻒَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻭَﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ
১. হাফিজুল হাদিস আব্দুর রাজ্জাক মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, ২১ একুশ রাকআত (তন্মধ্যে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও ১ রাকআত বিতির)
ﻭَﺭَﻭَﻯ ﻣَﺎﻟِﻚٌ ﻣِﻦْ ﻃَﺮِﻳﻖِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺑْﻦِ ﺧُﺼَﻴْﻔَﺔَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﺑْﻦِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﻫَﺬَﺍ ﻣَﺤْﻤُﻮﻝٌ ﻋَﻠَﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ
২. ইমাম মালিক ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফা সূত্রে সাঈব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বিতির ছাড়া বর্ণনা করেন, ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায সাহাবায়ে কেরাম আদায় করেছেন।
ﻭَﻋَﻦْ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺑْﻦِ ﺭُﻭﻣَﺎﻥَ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺯَﻣَﺎﻥِ ﻋُﻤَﺮَ ﺑِﺜَﻠَﺎﺙٍ ﻭَﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ
৩. ইমাম মালিক ইয়াজিদ ইবনে রোমান থেকে ৩ রাকআত বিতির সহ ২৩ তেইশ রাকআত তারাবীহ নামায সাহাবায়ে কেরামগণ হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ইয়াজিদ ইবনে রোমান যেহেতু ছেকা রাবী তাই এ হাদিস ﻣﺮﺳﻞ ‘মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও দলিলরূপে গণ্য করেছেন ইমাম ইবনে হজর আসকালানী আলাইহির রহমত।
ﻭَﺭَﻭَﻯ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻧَﺼْﺮٍ ﻣِﻦْ ﻃَﺮِﻳﻖِ ﻋَﻄَﺎﺀٍ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺩْﺭَﻛْﺘُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﺛَﻠَﺎﺙَ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕِ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮَ
৪. অপরদিকে মুহাম্মদ ইবনে নসর আতা সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন- আমি পেয়েছি সাহাবায়ে কেরামগণ রমযান মাসে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও ৩ তিন রাকআত বিতির নামায আদায় করতেন।’
এ বর্ণনাটিকেও আসকালানী তারাবীহ নামায যে ২০ বিশ রাকআত দলিলরূপে গণ্য করেছেন।
ইমাম আসকালানী আলাইহির রহমত উপরে বর্ণিত চারখানা হাদিসের সনদের মধ্য হতে কোন একজন বর্ণনাকারীকেও মুনকার বলে আখ্যায়িত করেননি।
উপরোল্লেখিত চারখানা হাদিস ব্যতীত আরো তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন-
এক. ১১ এগারো রাকআত
দুই. ১১ এগারো থেকে বেশি রাকআত
তিন. ১৩ তেরো রাকআত।
সর্বমোট সাতখানা হাদিস বর্ণনা করে তিনি সবকটি বর্ণনাগুলিকে সহীহ-শুদ্ধ সাব্যস্ত করে সর্বশেষে তিনি সব হাদিসগুলোকে তাতবীক বা সমন্বয় করেছেন এভাবে -
ﻭَﺍﻟْﺠَﻤْﻊُ ﺑَﻴْﻦَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺮِّﻭَﺍﻳَﺎﺕِ ﻣُﻤْﻜِﻦٌ ﺑِﺎﺧْﺘِﻠَﺎﻑِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻮَﺍﻝِ ﻭَﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥَّ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟِﺎﺧْﺘِﻠَﺎﻑَ ﺑِﺤَﺴَﺐِ ﺗَﻄْﻮِﻳﻞِ ﺍﻟْﻘِﺮَﺍﺀَﺓِ ﻭَﺗَﺨْﻔِﻴﻔِﻬَﺎ ﻓَﺤَﻴْﺚُ ﻳُﻄِﻴﻞُ ﺍﻟْﻘِﺮَﺍﺀَﺓَ ﺗَﻘِﻞُّ ﺍﻟﺮَّﻛَﻌَﺎﺕُ ﻭَﺑِﺎﻟْﻌَﻜْﺲِ ﻭَﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺟَﺰَﻡَ ﺍﻟﺪَّﺍﻭُﺩِﻱُّ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻩُ
ভাবার্থ: হাফিজুল হাদিস আল্লামা ইবনে হজর আসকালানী আলাইহির রহমত বলেন- এ সকল বর্ণনাগুলির মতানৈক্যের নিরসন বা সমাধান এভাবে হতে পারে। ১. ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে মতানৈক্যের সূচনা হয়েছে। ২. যে নামাযে লম্বা কিরআত পাঠ করা হতো, রাকআত কম হতো। ৩. আবার যে নামাযে কিরআত খাটো করা হতো, রাকআত বেশি হতো, ইমাম দাউদী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ এভাবে রাকআত মতানৈক্যের নিরসন বা সমাধান ভাবার্থ: হাফিজুল হাদিস আল্লামা ইবনে হজর আসকালানী আলাইহির রহমত বলেন- এ সকল বর্ণনাগুলির মতানৈক্যের নিরসন বা সমাধান এভাবে হতে পারে। ১. ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে মতানৈক্যের সূচনা হয়েছে। ২. যে নামাযে লম্বা কিরআত পাঠ করা হতো, রাকআত কম হতো। ৩. আবার যে নামাযে কিরআত খাটো করা হতো, রাকআত বেশি হতো, ইমাম দাউদী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ এভাবে রাকআত মতানৈক্যের নিরসন বা সমাধান দিয়েছেন।
ইমাম আসকালানী আলাইহির রহমত আরো বলেছেন- এগারো রাকআত, এগারো রাকআত থেকে বেশি, তেরো রাকআত ও একুশ রাকআত। সবগুলো রেওয়ায়েত বা বর্ণনাগুলোকে সহীহ-শুদ্ধ স্বীকার করে, এভাবে এর তাতবীক বা সমাধান দিয়েছেন। এগারো রাকআত ও তেরো রাকআত হলো তাহাজ্জুদ এর নামায। একুশ রাকআত এর মধ্যে বিশ রাকআত তারাবীহ এক রাকআত বিতির।
উল্লেখ্য যে, ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামাযের উপর সকল সাহাবায়ে কেরামগণের ঐকমত্য বা ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ﻟَﻜِﻦْ ﺃَﺟْﻤَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢَ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
ﻣﺮﻗﺎﺓ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﻮﺓ : ﺟﻠﺪ 3 ﺹ 346: ﻣﻼ ﻋﻠﻰ ﻗﺎﺭﻯ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ
ﻭَﻓِﻲ ﺍﺗِّﻔَﺎﻕِ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ - ﺭِﺿْﻮَﺍﻥُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ - ﻋَﻠَﻰ ﺗَﻘْﺪِﻳﺮِ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢِ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﺴﺮﺧﺴﻰ ﺟﺰﺀ ﺍﻻﻭﻝ ﺹ 156 -
দশ নং দলিলঃ
ঈমাম নববীর অভিমত
ﺍﻟﻤﺠﻤﻮﻉ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻤﻬﺬﺏ
(আলমাজমু শরহুল মুহাজ্জাব)
নামক কিতাবের পঞ্চম জিলদের ৪৬ পৃষ্ঠায় ইমাম নববী (বেলাদত ৬২১ হিজরি, ওফাত ৬৭৬ হিজরি) উল্লেখ করেন-
ﻭَﺍﺣْﺘَﺞَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻨَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻲُّ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻩُ ﺑِﺎﻟْﺈِﺳْﻨَﺎﺩِ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢِ ﻋَﻦْ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﺑْﻦِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑِﻲِّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ " ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭﻛﻌﺔ
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻲُّ ﻳُﺠْﻤَﻊُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮِّﻭَﺍﻳَﺘَﻴْﻦِ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﻳُﻮﺗِﺮُﻭﻥَ ﺑِﺜَﻠَﺎﺙٍ ﻭَﺭَﻭَﻯ ﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻲُّ ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﺃَﻳْﻀًﺎ ﻗِﻴَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﻌِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
ভাবার্থ: ইমাম নববী আলাইহি রহমত বলেন- আমাদের আসহাব ইমামগণ হাফিজুল হাদিস ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ কর্তৃক সহীহ সনদে হযরত সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। (সাহাবায়ে কেরামগণের ভাষ্য)
আমরা সাহাবায়ে কেরামগণ ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায পড়তাম।
ইমাম বায়হাকী বলেন- উভয় বর্ণনা দ্বারাই ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও ৩ তিন রাকআত বিতির সাব্যস্থ হয়ে গেল। ইমাম নববী বলেন- ইমাম বায়হাকী হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু
থেকেও ২০ বিশ রাকআত তারাবীহসংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন।
মুদ্দাকথা হলো ইমাম বায়হাকী হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহসংক্রান্ত দুইখানা হাদিস বর্ণনা করেছেন ভিন্ন সনদে।’
ইমাম নববী উক্ত কিতাবের ৪৫ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ করেন-
( ﻓَﺮْﻉٌ ‏) ﻓِﻲ ﻣَﺬَﺍﻫِﺐِ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﻓِﻲ ﻋَﺪَﺩِ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕِ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢِ ﻣَﺬْﻫَﺒُﻨَﺎ ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﺑِﻌَﺸْﺮِ ﺗَﺴْﻠِﻴﻤَﺎﺕٍ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺧَﻤْﺲُ ﺗَﺮْﻭِﻳﺤَﺎﺕٍ ﻭَﺍﻟﺘَّﺮْﻭِﻳﺤَﺔُ ﺃَﺭْﺑَﻊُ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ ﺑِﺘَﺴْﻠِﻴﻤَﺘَﻲْﻥِ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺬْﻫَﺒُﻨَﺎ ﻭَﺑِﻪِ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺣَﻨِﻴﻔَﺔَ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪُ ﻭَﺩَﺍﻭُﺩ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻭَﻧَﻘَﻠَﻪُ ﺍﻟْﻘَﺎﺿِﻲ ﻋِﻴَﺎﺽٌ ﻋَﻦْ ﺟُﻤْﻬُﻮﺭِ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ
ﺣﺎﺷﻴﻪ - ﻭَﺍﻟﺼَّﺤِﻴْﺢُ ﻗَﻮْﻝُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣَّﺔِ ﻟِﻤَﺎ ﺭُﻭِﻯَ ﺍَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺟَﻤَﻊَ ﺍَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻰْ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣْﻀَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍُﺑَﻰْ ﺑِﻦْ ﻛَﻌْﺐٍ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﻓِﻰ ﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻋِﺸْﺮِﻳْﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻨْﻜُﺮْ ﺍَﺣَﺪٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴَﻜُﻮُﻥ ﺍِﺟْﻤَﺎﻋًﺎ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ -
ভাবার্থ: ইমাম নববী বলেন- আমাদের মাযহাব হলো বিতির ব্যতীত দশ সালামের মাধ্যমে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায। দশ সালামে পাঁচ তারাবীহ হয়। এক তারবিহাত হলো দুই সালামে চার রাকাত। এটাই হলো আমাদের মাযহাব। এর উপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারি আসহাবগণ। ইমাম আহমদ ও দাউদসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরামগণও এর উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
এগার নং দলিলঃ
আল্লামা কাজী আয়াজের অভিমত:
মুহাদ্দিসে আ’জম কাযী আয়াজ আলাইহির রহমত জমহুর উলামায়ে কেরামগণ থেকে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
উক্ত শারহুল মুহাজ্জাব কিতাবের পার্শ্বটীকায় আরো উল্লেখ রয়েছে-
ﻭَﺍﻟﺼَّﺤِﻴْﺢُ ﻗَﻮْﻝُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣَّﺔِ ﻟِﻤَﺎ ﺭُﻭِﻯَ ﺍَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺟَﻤَﻊَ ﺍَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻰْ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣْﻀَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍُﺑَﻰْ ﺑِﻦْ ﻛَﻌْﺐٍ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﻓِﻰ ﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻋِﺸْﺮِﻳْﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻨْﻜُﺮْ ﺍَﺣَﺪٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴَﻜُﻮُﻥ ﺍِﺟْﻤَﺎﻋًﺎ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ -
ভাবার্থ- সকল উলামায়ে কেরামগণের অভিমতই সহীহ বা বিশুদ্ধ। যেহেতু হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু রমযান মাসে উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন। উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে রমযানশরীফের প্রতিটি রাতে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ জামায়াতের সাথে আদায় করলেন। অথচ কেউই এই ইজমা বা ঐকমত্যকে অস্বীকার ভাবার্থ- সকল উলামায়ে কেরামগণের অভিমতই সহীহ বা বিশুদ্ধ। যেহেতু হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু রমযান মাসে উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন। উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে রমযানশরীফের প্রতিটি রাতে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ জামায়াতের সাথে আদায় করলেন। অথচ কেউই এই ইজমা বা ঐকমত্যকে অস্বীকার করেন নি।
বার নং দলিলঃ
হাফিজুল হাদীছ আল্লামা শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবীর অভিমতঃ
পাকভারত ও বাংলা উপমহাদেশে যিনি কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা সর্বপ্রথম নিয়মিতভাবে চালু করে ছিলেন, তিনি হচ্ছেন, একাদশ শতাব্দীর দশম মুজাদ্দিদ শায়খুল মুহাক্কিবক শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী আলাইহির রহমত (বেলাদত ৯৫৮ হিজরি ওফাত ১০৫২ হিজরি) ‘মা সাবাতা মিনাস সুন্নাহ’ নামক কিতাবের ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ‘শাহরে রমযান’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেন-
ﻋﻠﻢ ﺍﻧﻪ ﻗﺪ ﺍﺧﺘﻠﻒ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻓﻰ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻫﻞ ﺗﺴﻤﻰ ﺳﻨﺔ ... ﻭﻗﺎﻝ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺗﺴﻤﻰ ﺳﻨﺔ ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺻﺢ ﻭﻫﻰ ﺳﻨﺔ ﻣﺆﻛﺪﺓ ﻟﻠﺮﺟﺎﻝ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﺗﻮﺍﺭﺛﻬﺎ ﺍﻟﺨﻠﻒ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﻠﻒ -
ভাবার্থ: তারাবীহ নামায সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সহিহ শুদ্ধ অভিমত হলো- তারাবীহ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ পুরুষ মহিলা সকলের জন্য। এ অভিমত সলফে সালেহীন থেকে চলে আসছে।
তিনি উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ করেন-
ﺍﻟﻔﺼﻞ ﺍﻻﻭﻝ ﻓﻰ ﻋﺪﺩ ﺭﻛﻌﺎﺗﻬﺎ -
ﻓﻌﻨﺪﻧﺎ ﻋﺸﺮﻭﻥ ﺭﻛﻌﺔ ﻟﻤﺎ ﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻧﻬﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﻤﺮ ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﻓﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻋﻠﻰ ﻣﺜﻠﻪ -
ভাবার্থ: শায়খুল মুহাক্কিকীন শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী আলাইহির রহমত বলেন- হাফিজুল হাদিস ইমাম বায়হাকি আলাইহির রহমতের সহীহ বর্ণনার আলোকে আমরা মুহাদ্দিসীনে কেরামদের অভিমত হলো- তারাবীহ নামায ২০ বিশ রাকআত। কেননা সাহাবায়ে কেরামগণ হযরত ওমর ফারুক, হযরত উসমান, হযরত আলী রেদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনের যামানায় রমযান মাসে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন।
তিনি (শেখ আব্দুল হক দেহলভী) আরো বলেন- আল্লাহর রাসূল বিশ রাকাত তারাবীহ নামায আদায় করেছেন বলে কোন সহীহ হাদিস নেই। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ আদায় করে আসছেন, হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালের শেষপ্রান্ত থেকে, তাঁরই নির্দেশে সকল সাহাবায়ে কেরামদের ঐকমত্যে সহীহ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত আছে। এ পুস্তকের প্রথমাংশে দলিলসহ প্রমাণ করা হয়েছে।
অপরদিকে হাবিবে খোদা কত রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করেছেন, এর সঠিক সংখ্যার কোন সহীহ বর্ণনা নেই। হাফিজুল হাদিস ইমাম সুবুকিসহ সকল মুহাদ্দিসীনগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অর্ধান্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু দেখে আবার অনেক কিছুই দেখতে পারে না।
হেদায়ার গ্রন্থাকারের অভিমত
তের নং দলিলঃ
শায়খুল ইসলাম বুরহানউদ্দিন আলী ইবনে আবু বকর আলাইহির রহমত ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ‘আল হিদায়া’ নামক কিতাবের
ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﺠﺘﻤﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻲ ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻓﻴﺼﻠﻲ ﺑﻬﻢ ﺇﻣﺎﻣﻬﻢ ﺧﻤﺲ ﺗﺮﻭﻳﺤﺎﺕ ﻛﻞ ﺗﺮﻭﻳﺤﺔ ﺑﺘﺴﻠﻴﻤﺘﻴﻦ ﻭﻳﺠﻠﺲ ﺑﻴﻦ ﻛﻞ ﺗﺮﻭﻳﺤﺘﻴﻦ ﻣﻘﺪﺍﺭ ﺗﺮﻭﻳﺤﺔ ﺛﻢ ﻳﻮﺗﺮ ﺑﻬﻢ " ﺫﻛﺮ ﻟﻔﻆ ﺍﻻﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻭﺍﻷﺻﺢ ﺃﻧﻬﺎ ﺳﻨﺔ
ভাবার্থ: মুস্তাহাব এই যে, মুসল্লিয়ানে কেরাম রমযান মাসে এশার পরে একত্র হবে এবং ইমাম সাহেব তাদেরকে নিয়ে পাঁচ তারবিহা (অর্থাৎ চার চার রাকআত সালাত) পড়বেন। প্রতিটি তারবিহা (চার রাকাত) দুই সালামে হবে। এবং প্রতিটি তারবিহার পরে এক তারবিহা পরিমাণ বসবে। এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে নিয়ে বিতির পড়বেন। সহীহ-শুদ্ধ অভিমত হলো জামায়াতের সাথে তারাবীহ নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া’
হেদায়া কিতাবের উপরোক্ত দলিলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো- তারাবিহ নামায ২০ বিশ রাকআত।
চৌদ্ধ নং দলিলঃ
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনীর অভিমত
সহীহ বুখারীশরীফের ভাষ্যকার ইমাম আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী আলাইহির রহমত ওফাত ৮৫৫ হিজরি তদীয়
ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ‘উমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহীল বুখারী’ নামক কিতাবের ষষ্ট জিলদের ১২৭ পৃষ্ঠায় তারাবীহ অধ্যায়ে, তারাবীহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে উল্লেখ করেন-
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺶ : ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻋﺸْﺮﻳﻦ ﺭَﻛْﻌَﺔ ﻭﻳﻮﺗﺮ ﺑِﺜَﻠَﺎﺙ ‏) .........
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟْﺒﺮ : ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮﻝ ﺟُﻤْﻬُﻮﺭ ﺍﻟْﻌﻠﻤَﺎﺀ، ﻭَﺑِﻪ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻜُﻮﻓِﻴُّﻮﻥَ ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲّ ﻭَﺃﻛْﺜﺮ ﺍﻟْﻔُﻘَﻬَﺎﺀ، ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢ ﻋَﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻦ ﻛَﻌْﺐ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺧﻼﻑ ﻣﻦ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔ .
ভাবার্থ: আ’মাশ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায ও তিন রাকআত বিতির আদায় করতেন। ... এবং ইবনে আব্দুল বর বলেন- এ হলো জমহুর উলামাগণের অভিমত। এ অভিমতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কুফার আলেমগণ, শাফেয়ী মাযহাবলম্বী আলেমগণ এবং অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরামগণ বা ইসলামী আইন বিশারদগণ। (আল্লামা আইনী বলেন) ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও তিন রাকআত বিতির নামায হলো হযরত উবাই ইবনে কা’ব থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে কোন এখতেলাফ বা মতানৈক্য ছাড়াই ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতির প্রমাণিত।
আশ শায়খ ইমাম আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী আলাইহির রহমত (ওফাত ৮৫৫ হিজরি) তদীয় ﺍﻟﺒﻨﺎﻳﺔ ﻓﻰ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ‘আল বেনায়া শরহে হেদায়া’ নামক কিতাবের দ্বিতীয় জিলদের ২৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻭﺍﺣﺘﺞ ﺍﻷﺻﺤﺎﺏ ﻭﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﺔ ﻭﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﺑﻤﺬﻫﺒﻬﻢ ﺑﻤﺎ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺎﺋﺐ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﻲ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﻤﺮ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ، ﻭﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻋﻠﻲ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ - ﻣﺜﻞ . ﻭﻓﻲ " ﺍﻟﻤﻐﻨﻲ " ﻋﻦ ﻋﻠﻲ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﺃﻧﻪ ﺃﻣﺮ ﺭﺟﻼ ﺃﻥ ﻳﺼﻠﻲ ﺑﻬﻢ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻗﺎﻝ ﻭﻫﺬﺍ ﻛﺎﻹﺟﻤﺎﻉ .
ভাবার্থ: শাফেয়ী মাযহাবলম্বী উলামায়ে কেরামগণ (তাদের মাযহাবের সিদ্ধান্ত ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ) দলিল উপস্থাপনা করলেন, হাফিজুল হাদিস ইমাম বায়হাকী সহীহ সনদে সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসখানা দ্বারা। সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবি বলেন- সাহাবায়ে কেরামগণ হযরত ওমর ফারুক এর খেলাফতকালে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন। এভাবে হযরত উসমান, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমার যামানায়ও সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন বলেও সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আছে। তিনি আরো বলেন- ইহা ইজমার অনুরূপ।
ইবনে কুদামার অভিমত
পনের নং দলিলঃ
হাম্বলী মাযহাবের ফকিহ বা ইসলামী আইন বিশারদ ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা মুকাদ্দাসী তদীয় ‘আল মুগনী’ নামক কিতাবের দ্বিতীয় জিলদের ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ‘সালাতুত তারাবিহ’ অধ্যায়ে ৩৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻣَﺴْﺄَﻟَﺔٌ : ﻗَﺎﻝَ ‏( ﻭَﻗِﻴَﺎﻡُ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻋِﺸْﺮُﻭﻥَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ‏) . ‏( ﻳَﻌْﻨِﻲ ‏)
‏( ﺻَﻠَﺎﺓَ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢِ ‏) ﻭَﻫِﻲَ ﺳُﻨَّﺔٌ ﻣُﺆَﻛَّﺪَﺓٌ، ﺍﻟﺦ
ভাবার্থ: তারাবীহ নামায ২০ বিশ রাকআত এবং ইহা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
উক্ত কিতাবের ৩৯৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-
ﻭَﻟَﻨَﺎ، ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ، - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻟَﻤَّﺎ ﺟَﻤَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻟَﻬُﻢْ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً، ﻭَﻗَﺪْ ﺭَﻭَﻯ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦُ ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺟَﻤَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ، ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻟَﻬُﻢْ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﻟَﻴْﻠَﺔً ... ﻭَﺭَﻭَﻯ ﻣَﺎﻟِﻚٌ، ﻋَﻦْ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺑْﻦِ ﺭُﻭﻣَﺎﻥَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺯَﻣَﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﺜَﻠَﺎﺙٍ ﻭَﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً . ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﺃَﻧَّﻪُ ﺃَﻣَﺮَ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﻬِﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً . ﻭَﻫَﺬَﺍ ﻛَﺎﻟْﺈِﺟْﻤَﺎﻉِ
ভাবার্থ: (ইবনে কুদামা মুকাদ্দাসী বলেন) তারাবীহ নামায ২০ বিশ রাকআত আমাদের দলিল হলো- হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন, উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায ভাবার্থ: (ইবনে কুদামা মুকাদ্দাসী বলেন) তারাবীহ নামায ২০ বিশ রাকআত আমাদের দলিল হলো- হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন, উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায পড়ালেন।
ষোল নং দলিলঃ
হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন- হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন। অতঃপর উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন- হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবনে কা’ব এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরামগণকে একত্রিত করালেন। অতঃপর উবাই ইবনে কা’ব সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করলেন।
সতের নং দলিলঃ
ইমাম মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়াজিদ ইবনে রোমান থেকে বর্ণনা করেন- হযরত ওমর ফারুক এর যামানায় সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায পড়তেন। (এ বর্ণনা মুরসাল রাবি যেহেতু ছেকা এবং সহীহ হাদিসের পরিপন্থী নয়, তাই এ মুরসাল হাদিস দলিলরূপে গণ্য এতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না)
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি (হযরত আলী) সাহাবায়ে কেরামদের মধ্য থেকে একজন সাহাবীকে রমযান মাসে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায জামায়াতের সাথে আদায় করার নির্দেশ দিলেন। এ থেকে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায সকল সাহাবায়ে কেরামদের ঐকমত্যে ইজমার মধ্যে পরিগণিত হয়ে গেল।’
আঠারো নং দলিলঃ
ইমাম তিরমিজির অভিমত
মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে যিহাক সালমী বুগী তিরমিজি (ইমাম তিরমিজি আলাইহি রহমত ২৭৯ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন) তিনি ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ সুনানে তিরমিজি’ নামক কিতাবের তৃতীয় জিলদের ১০৩ পৃষ্ঠায়
ﺩﺍﺭ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻘﺎﻫﺮﺓ হাদিস নম্বর ৮০৬)
ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻰ ﻗﻴﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ
কিয়ামে রমযান বা তারাবীহ নামাযের রাকআত সংখ্যার অধ্যায়ে উল্লেখ করেন-
ﻭﺍﺧﺘﻠﻒ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻓﻰ ﻗﻴﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ
(রমযানশরীফে, তারাবীহ রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন আহলে ইলিম বা ইলমে হাদিসের পারদর্শী ব্যক্তিগণ-
ﻓَﺮَﺃَﻯ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ : ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠِّﻲَ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻭَﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻣَﻊَ ﺍﻟﻮِﺗْﺮِ، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ، ﻭَﺍﻟﻌَﻤَﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻋِﻨْﺪَﻫُﻢْ ﺑِﺎﻟﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ،
(ইমাম তিরমিজি বলেন) বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যাক উলামায়ে কেরামদের অভিমত হলো, বিতিরসহ ৪১ একচল্লিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করার আমল এ অভিমত হলো মদীনাবাসীদের। (এ হলো হযরত ওমর ফারুক এর খেলাফতে অধিষ্টিত হওয়ার পূর্বের কথা) এরপর ইমাম তিরমিজি আরো উল্লেখ করেন-
ﻭَﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻌِﻠْﻢِ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺮَ، ﻭَﻋَﻠِﻲٍّ، ﻭَﻏَﻴْﺮِﻫِﻤَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﻤُﺒَﺎﺭَﻙِ، ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲِّ
অধিকাংশ আহলে ইলিম অর্থাৎ অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগণের অভিমত হলো- হযরত ওমর, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে সহীহ সনদসূত্রে বর্ণিত রয়েছে, তারাবীহ নামায হচ্ছে ২০ বিশ রাকআত।
এ হলো হযরত ছাওরী, হযরত ইবনে মোবারক ও ইমাম শাফেয়ী আলাইহির রহমত সকল উলামাগণের অভিমত। (হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের মসনদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরের কথা, হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নির্দেশে সাহাবায়ে কেরামগণের ঐকমত্যে জামায়াতের সাথে নিয়মিতভাবে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ প্রচলন হয়ে চলতে থাকে, তখনকার কথা)
উপরোক্ত দলিলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, সিহাহ সিত্তাহ কিতাবের মধ্যে অন্যতম হাদিসের কিতাব ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ সুনানে তিরমিজি’ এর মধ্যেও ২০ রাকআত তারাবীহ নামাযের উল্লেখ রয়েছে। এতদভিন্ন অন্যান্য হাদিসের কিতাবেও সহীহ সনদে এর ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
উনিশ নং দলিলঃ
আব্দুল হাই লাখনবী সাহেবের অভিমত
আল্লামা আবুল হাসানাত আব্দুল হাই লাখনবী সাহেব (বেলাদত ১২৬৪ হিজরি) ‘হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া উমদাতুর রেয়ায়া’ নামক কিতাবের প্রথম জিলদের ১৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻧَﻌَﻢْ ﺛَﺒَﺖَ ﺍِﻫْﺘِﻤَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ ﻋَﻠَﻰ ﻋِﺸْﺮِﻳْﻦَ ﻓِﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻋُﻤَﺮَ ﻭَﻋُﺜْﻤَﺎِﻥ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺭِﺿْﻮَﺍﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺍَﺟْﻤَﻌِﻴْﻦَ ﻓَﻤِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﺍَﺧْﺮَﺟَﻪُ ﻣَﺎِﻟﻚٍ ﻭَﺍِﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ ﻭَﺍﻟْﺒَﻴْﻬَﻘِﻰ ﻭﻏَﻴْﺮِﻫِﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﻭﺍﻇﺒﺖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀُ ﻓِﻌْﻼً ﺍَﻭْ ﺗَﺸْﺮِﻳْﻌًﺎ ﺍَﻳْﻀًﺎ ﺳُﻨَّﺔٌ ﻟِﺤَﺪِﻳْﺚٍ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻰ ﻭَﺳُﻨَّﺔِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀِ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳْﻦ ﺍﺧﺮﺟﻪ ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ﻭﻏﻴﺮﻩ -
ভাবার্থ: হযরত ওমর ফারুক, হযরত উসমানগণী জিননুরাইন ও হযরত আলী কাররামাহুল্লাহ ওয়াজহাহু রেদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন, এ তিন স্বর্ণযুগে সাহাবায়ে কেরামগণের ঐক্যমতে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায এর প্রচলন অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম হতে তাবেঈন ও তাবয়ে তাবেঈন হয়ে আজ পর্যন্ত এ পদ্ধতি অর্থাৎ ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামাযের প্রচলন চলে আসছে। ইমাম মালেক, ইমাম সা’দ ও ইমাম বায়হাকীসহ মুহাদ্দিসীনগণ আল্লাহর হাবিবের ঐ হাদিসের প্রেক্ষাপটে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায সুন্নত হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। হাদিসখানা হলো হাবিবে খোদার নূরানী ফরমান-
ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻰ ﻭَﺳُﻨَّﺔِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀِ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳْﻦ
আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নত তোমরা আঁকড়িয়ে ধর। (আবু দাউদশরীফ)
আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী সাহেব তদীয় ﻣﺠﻤﻮﻋﻪ ﻓﺘﺎﻭﻯ ‘মজমুয়ায়ে ফাতাওয়া’ নামক কিতাবের তৃতীয় জিলদের ৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
ﺳﻮﺍﻝ - ﺣﻨﻔﯿﮧ ﺑﺴﺖ ﺭﮐﻌﺖ ﺗﺮﺍﻭﯾﺢ ﺳﻮﺍﮰ ﻭﺗﺮﻣﯿﺨﻮﺍﻧﻨﺪ ﻭﺩﺭ ﺣﺪﯾﺚ ﺻﺤﯿﺢ ﺍﺯ ﻋﺎﺋﺸﮧ ﺻﺪﯾﻘﮧ ﺭﺿﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻨﮩﺎ ﻭﺍﺭﺷﺪﮦ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﺰﻳﺪ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻻ ﻓﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﺣﺪﻯ ﻋﺸﺮﺓ ﺭﻛﻌﺔ ﭘﺲ ﺳﻨﺪ ﺑﺴﺖ ﺭﮐﻌﺖ ﭼﯿﺴﺖ؟
ভাবার্থ: প্রশ্ন: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী বিতির ছাড়া তারাবীহ নামায কত রাকআত?
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে সহীহ সনদ সূত্রে হাদিস বর্ণিত আছে-
ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻻَ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা বলেন- হাবিবে খোদা রমযান ও রমযান ছাড়া অন্যান্য মাসে শুধুমাত্র ১১ এগারো রাকআত সালাত আদায় করতেন এর বেশি নয়।
ﺟﻮﺍﺏ - ﺭﻭﺍﻳﺖ ﻋﺎﺋﺸۃ ﺻﺪﯾﻘﮧ ﺭﺿﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻨﮩﺎ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﺑﺮﻧﻤﺎﺯ ﺗﮩﺠﺪﺳﺖ ﮐﮧ ﺩﺭ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻏﯿﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﯾﮑﺴﺎﻥ ﺑﻮﺩ ﻭﻏﺎﻟﺒﺎ ﺑﻌﺪ ﻭﺯﯾﺎﺩﮦ ﺭﮐﻌﺖ ﻣﻊ ﺍﻟﻮﺗﺮ ﻣﯿﺮﺳﯿﺪ ۔۔۔
ﻭﻧﻤﺎﺯ ﺗﺮﺍﻭﯾﺢ ﺭﺍﺩﺭ ﻋﺮﻑ ﺁﮞ ﻭﻗﺖ ﻗﯿﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻣﯿﮕﻔﺘﻨﺪ ﻭﺩﺭ ﺻﺤﺎﺡ ﺳﺘﮧ ﺑﺮﻭﺍﯾﺎﺕ ﺻﺤﯿﺤﮧ ﻣﺮﻓﻮﻋﮧ ﺍﻟﯽ ﺍﻟﻨﺒﯽ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﺗﻌﯿﻦ ﻋﺪﺩ ﻗﯿﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻣﺼﺮﺡ ﻧﺸﺪﮦ ﺍﯾﻨﻘﺪﺭ ﮬﺴﺖ ﮐﮧ ﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﺎﻥ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻓﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ...
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ ﻓﻰ ﺳﻨﻨﻪ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺎﺋﺐ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ -
জওয়াব
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে ১১ এগারো রাকআত এর যে বর্ণনা রয়েছে, তা হলো তাহাজ্জুদের নামায। তাহাজ্জুদ নামায রমযান ও গয়র রমযান সব মাসেই একই ধরনের আদায় করতে হয় এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সম্ভবত: বিতির নামাযের সংখ্যা কম বেশি হতে পারে।
অপরদিকে ‘তারাবীহ নামায’ শরিয়তের পরিভাষায় ‘কিয়ামে রমযান’ বা শুধু রমযান মাসেই আদায় করতে হয়।
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা দ্বারা পাওয়া যায় হাবিবে খোদা রমযান ও গয়র রমযান মাসে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করেছেন। (মুসলিম শরীফ)
বিশ নং দলিলঃ
হাফিজুল হাদিস ইমাম বায়হাকী ‘সুনানে কুবরা’ নামক কিতাবে সাঈব ইবনে ইয়াজিদ সাহাবী থেকে সহীহ সনদের বর্ণনার দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত, সাঈব ইবনে ইয়াজিদ বলেন- সাহাবায়ে কেরামগণ হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালে ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন।
এ হলো আব্দুল হাই লাখনভী সাহেবের দলিলভিত্তিক বক্তব্য।
একুশ নং দলিলঃ
হাফেজে হাদীছ আল্লামা হযরত আনোয়ার শাহ্ কাশ্মেরীর অভিমতঃ
আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী সাহেব ‘ফয়জুলবারি শরহে বুখারি’ তৃতীয় জিল্দ ১৮১ পৃষ্ঠায় ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻮﻡ ‘কিতাবুস সউম’ ﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ‘ফাদ্বলু মান কামা রমযান’ কিয়ামে রমযান বা রমযানশরীফে তারাবীহ নামায আদায়ের ফজিলত অধ্যায়ে উল্লেখ করেন-
ﻭﺛَﺒَﺖَ ﻋﻦ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺃﻧﻪ ﺃﻡَّ ﺑﺎﻟﻜﻮﻓﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ . ﻭﺃﻣَّﺎ ﻋﺪﺩُ ﺭﻛﻌﺎﺕ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ، ﻓﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﻋﻠﻰ ﺃﻧﺤﺎﺀٍ، ﻭﺍﺳﺘﻘﺮَّ ﺍﻷﻣﺮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺸﺮﻳﻦ ﻣﻊ ﺛﻼﺙ ﺍﻟﻮﺗﺮ
ভাবার্থ: আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী বলেন- হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত আছে, তিনি (হযরত আলী) কুফা শহরে তারাবীহ নামাযের ইমামতি করেছেন এবং হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তারাবীহ নামায এর রাকআত সংখ্যা সর্ব শেষে যা নির্ধারিত হয়েছিল, তা ছিল ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ ও ৩ তিন রাকআত বিতির নামায আদায় করেছেন।
অতএব ২০ রাকআত তারাবীহ ও ৩ রাকআত বিতির সুন্নতে সাহাবা প্রমাণিত হলো।’
উক্ত কিতাবের (ফয়জুল বারি শরহে বুখারী) তৃতীয় খ- ১৮১ পৃষ্ঠা দুইনম্বর পার্শ্বটীকা ‘হাশিয়ায়ে বদরুস সারী’ উল্লেখ রয়েছে-
ﻗﻠﺖُ : ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱُّ : ﺍﺧﺘﻠﻒ ﺃﻫﻞُ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺭَﻣْﻀَﺎﻥَ، ﻓَﺮَﺃﻯ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﺃﻥ ﻳُﺼَﻠِّﻲَ ﺇﺣﺪﻯ ﻭﺃﺭﺑَﻌِﻴْﻦَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻣَﻊ ﺍﻟْﻮَﺗْﺮِ، ﻭَﻫُﻮ ﻗَﻮْﻝُ ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳْﻨَﺔِ، ﻭَﺃﻛْﺜَﺮُ ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻋَﻠﻰ ﻣَﺎ ﺭُﻭِﻱ ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﻭَﻋُﻤَﺮَ، ﻭَﻏَﻴْﺮِﻫِﻤَﺎ ﻣِﻦْ ﺃﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻋَﺸْﺮِﻳْﻦَ ﺭﻛﻌﺔً، ﻭَﻫَﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱ، ﻭَﺍَﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺭَﻙِ، ﻭﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌﻲ؛ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲ : ﻫﻜَﺬﺍَ ﺃﺩْﺭَﻛْﺖُ ﺑِﺒَﻠَﺪِﻧَﺎ ﺑِﻤَﻜَّﺔَ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ = ﻋِﺸْﺮِﻳْﻦَ ﺭﻛَﻌْﺔًَ، ﻭﻗَﺎﻝَ ﺃﺣْﻤَﺪُ : ﺭَﻭَﻱ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺃﻟْﻮَﺍﻥٌ ﻟَﻢْ ﺗﻘﺾِ ﻓِﻴْﻪ ﺑِﺸﻲﺀٍ . ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺇﺳْﺤَﺎﻕَ : ﺑَﻞْ ﻧَﺨْﺘَﺎﺭُ ﺇﺣْﺪَﻯ ﻭَّﺃﺭْﺑَﻌِﻴْﻦَ ﺭﻛﻌﺔً ﻋَﻠﻰ ﻣَﺎ ﺭُﻭِﻱ ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲِّ ﺑِﻦْ ﻛﻌﺐٍ . ﺍﻫـ .
ﻭﺗﺒﻴَّﻦ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻌﻤﻞُ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺮﻣﻴﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻔﻴﻦ، ﻭﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﺬﻫﺐُ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ . ﻓَﻠﻴُﺼَﻞ ﺍﻟﻤﺪَّﻋُﻮﻥ ﺑﺎﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﺤﺪﻳﺚ ﺛﻤﺎﻧﻴﺔً ﺃﻭ ﺩﻭﻧﻬﺎ، ﻓﺈﻥ ﺃﻛﺜﺮَ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻟﻢ ﻳُﺼَﻠَّﻮﺍ ﺇﻟَّﺎ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ . ﻓﻬﻢ ﺍﻟﻌُﻤﺪَﺓُ، ﻭﺑﻬﻢ ﺍﻟﻘُﺪﻭَﺓُ - ﺍﻟﺦ
ভাবার্থ আমি (হাশিয়ায়ে বদরুস সারী) বলছি, ইমাম তিরমিজি আলাইহির রহমত বর্ণনা করেন- কিয়ামে রমযান বা তারাবীহ নামাযের সংখ্যা নিয়ে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে এখতেলাফ বা মতানৈক্য রয়েছে। কিছু সংখ্যক এর অভিমত হলো, বিতিরসহ তারাবীহ নামায একচল্লিশ রাকআত, এ হলো মদিনাবাসীদের অভিমত।
অপরদিকে হযরত আলী, হযরত ওমরসহ অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামগণের মতামত ও আমল হলো ২০ বিশ রাকআত তারাবীহ। সুফিয়ান সওরি, ইবনে মোবারক ও ইমাম শাফেয়ী আলাইহির রহমত এ অভিমতকে সমর্থন করেছেন৷
অতএব শুধু নবীজীর সুন্নত পালন করার নামই আহলে সুন্নত নহে বরং নবীজীর সুন্নতের সাথে খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নতের আমল করার নামই আহলে সুন্নত৷অর্থাৎ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নত মানার নামই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত৷যেমন প্রসঙ্গক্রমে নবীজী এরশাদ করেন, ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺴﻨﺘﻲ ﻭﺳﻨﺔ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﺍﻟﻤﻬﺪﻳﻴﻦ . অর্থাৎ হে উম্মতগন! তোমরা আমার সুন্নত এবং আমার খোলাফায়ে রাশিদ্বীন তথা (1) হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ),(2)হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ),(3) হযরত ওসমান জিন্নুরাইন (রাঃ) ও (4) হযরত আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) দেঁর সুন্নত অনুসরণ কর৷ এখানে এটাই প্রমানিত হলো যে,হাবীবে খোদা হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত ও তাঁর উল্লেখিত মহামান্য চাঁরজন সাহাবায়ে কেরামের সুন্নতের প্রতি দৃঢ় অনুসরণ এবং আমল করার নামই আহলে সুন্নত৷ সহজ কথায়, যারা নবীজীর সুন্নত ও তাঁর সাহাবীগনের সুন্নত মানে তারাই বেহেশতী দল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের পরিপূর্ণ অনুসারী৷আর যারা নবীজীর সাহাবী মানেনা এবং তাঁদের অনুসৃত তরিকা ও আমালিয়াতের ওপর আনুগত্য প্রদর্শন করেনা ওরাই আহলে বেদআত বা জাহান্নামী দল৷আহলে সুন্নতের তরিকামতে সহিহ আমল হলো 20 রাকআত তারাবীহ নামাজ৷এটাই সকল মুসলমানের জন্য বিশুদ্ধ বিধান৷আর আট রাকআত তারাবীহ নামাজ আহলে বেদআত বা জাহান্নামী বাহাত্তর দলের মনগড়া আমল৷মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন৷
আমিন ছুন্মা আমিন৷
খাদিমুল ইফতাঃ
{মুফতি শাইখ এস এম নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট}

আহলে হাদীছের কুফরি আকিদা

আহলে হাদীছের কুফরি আকিদা
তথ্য সংগ্রহঃ মুফতি শাইখ এস এম নুরুল ইসলাম নকশবন্দী- মুজাদ্দেদী,সদর সিলেট৷

আহলে হাদিস নামধারী লা-মাযহাবীদের তথ্যসুত্র সহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পড়ার বিশেষ অনুরোধ রইলো সকল শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতিঃ
(১) সহীহ হাদিস দ্বারা পবিত্র মক্কা মদিনা সহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন ঐক্যবদ্ধভাবে রমযানে তারাবীহের নামায ২০ রাকাআত আদায় করে যাচ্ছেন।
এমতাবস্হায় এ চক্রটি ২০ রাকাআত তারাবীহ সহীহ হাদিসে নাই বলে প্রচার করে ৮ রাকাআত তারাবীহ পড়তে সাধারণ সরল প্রাণ মুসলমানদের বাধ্য করছে।
(২) তাদের বক্তব্য, যারা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়েন তারা মুশরিক।
তারা বলে সারা পৃথিবীর মানুষ কালিমার মধ্যে আল্লাহ ও মুহাম্মদকে এক করে আল্লাহ ও মুহাম্মদকে দুই ভাই বানিয়ে ফেলেছে। (তথ্যসুত্র: ইসলামের মূলমন্ত্র কালিমা তায়্যিবাহ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, পৃষ্ঠা-৯ লেখক- আব্দুল্লাহ ফারুক বিন আব্দুর রহমান)।
(৩) কালিমা তায়্যিবাহ তথা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এটা কোন পবিত্র বাক্য নয়। (তথ্যসুত্র: কালিমার মর্ম কথা, পৃষ্ঠা-৩১৮, লেখক- আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম)।
(৪) মুক্বাল্লিদগণকে (যারা মাযহাব মানেন) মুসলমান মনে করা উচিত নয়। (তথ্যসুত্র: তাওহীদী এটমবোম, পৃষ্ঠা-১৫, লেখক- মাওলানা আব্দুল মন্নান সিরাজনগরী (বগুড়া)।
(৫) মাযহাবীগণ ইসলাম থেকে বহিস্কৃত, তাদের মধ্যে ইসলামের কোন অংশ নেই। (তথ্যসুত্র: তাম্বিহুল গাফেলীন, পৃষ্ঠা-৭, লেখক- আব্দুল কাদির)।
(৬) চার মাযহাবের মুক্বাল্লিদ এবং চার তরিকার অনুসারীগণ মুশরিক ও কাফির। (তথ্যসুত্র: ইতেছামুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা-৭-৮, লেখক- মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদী)।
(৭) পাঞ্জাবী, টুপি এগুলো সুন্নতি পোষাক নয় বরং ভিক্ষাবৃত্তির পোষাক। ইসলামে সুন্নতি পোষাক বলতে কোন পোষাক নেই। (তথ্যসুত্র: দ্বীন ইসলামের জানা অজানা, পৃষ্ঠা-২১২-২১৩, লেখক- ড. ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ)।
(৮) সাহাবীদের মধ্যে আমর বিন আস, ওয়ালিদ বিন মুগিরা, মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান, মুগিরা বিন শু'বাহ, সামুরা বিন জুনদুব এরা সকলেই ফাসেক ছিল। এদের নামের সাথে রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা হারাম। (তথ্যসুত্র: মাসায়ালে গায়রে মুকাল্লিদীন, পৃষ্ঠা- ৬০, লেখক- আবু বকর গাজীপুরী।)
(৯) মহিলারা পুরুষের ইমামতি করতে পারবে। (তথ্যসুত্র: মাসায়েলে গায়রে মুকাল্লিদীন পৃষ্ঠা- ৩০৯, লেখক- আবু বকর গাজীপুরী। মহিলারা মুআজ্জিন হতে পারবেন। (তথ্যসুত্র: হাদিয়াতুল মাহদী, পৃষ্ঠা- ২৩)।
(১০) হযরত ওমর কোরআনের হুকুম পরিবর্তন করে ফেলেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। (তথ্যসুত্র: তানবীরুল আফাক, পৃষ্ঠা- ৪৯৮-৪৯৯)।
(১১) আহলে হাদিস রচিত যফরুল কাযী পুস্তকের ১৪১। উরফুল জাবী পুস্তকের ১১৫ নং পৃষ্ঠায়লেখা আছে; পুরুষ একই সময়ে যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারবে।
(১২) গোসল ছাড়াই নাপাক ব্যক্তি কুরআনুল কারীম স্পর্শ করা, উঠানো রাখা হাত লাগানো জায়েজ। (তথ্যসুত্র: দলীলুত তালেব, পৃষ্ঠা- ২৫২, আরফুল জাদী আল বুনিয়াদুল মারসুস)।
অতএব উল্লেখিত উক্তিগুলো যে বাতিল সে গুলো আহলে হাদীছ গোমরাহ পন্ডিতদের লিখিত কিতাবাদী দ্বারাই প্রমানিত৷তাই একজন আত্ন সচেতন ও খাঁটি সুন্নী মুসলমান হিসেবে ওদেরকে দেশ,সমাজ এবং আলেম সমাজ হতে বয়কট করে চলা একান্ত উচিত৷

ওহাবীরা কি সত্যিই মুসলিম ?

আব্দুল ওহাব নজদীর মতবাদে যারা বিশ্বাস করে,, তারাই হলো ওহাবী মুসলিম,
ওহাবীরা কি সত্যিই মুসলিম???
সাওদী ওহাবী বাদশাহ আল ওয়ালিদ বিন তা'লাল আসসাওদ হলেন শয়তানের শিং শায়খ আব্দুল ওহাব নজদীর জামাতা৷
এ কারণেই সাওদীর রাজ পরিবারের নারী-পুরুষ সকলের রক্তই দোষ যুক্ত নজদীর মেয়ের জাত হওয়ার কারণে৷ কথায় আছেনা'
কুল-কুলতা বে-জাত,তিন জাতে এক জাত তাকেই বলে কম জাত৷
সাওদী রাজ পরিবার হচ্ছে কম জাতের রাজ পরিবার৷
ওরা এক এক সময়, এক এক আকিদায় ও চরিত্র মেটে ওঠে৷
অর্থাৎ তারা কখনো মুসলিম চরিত্রের আবার কখনো ইহুদী-খ্রীষ্টানদের চরিত্রের৷
এসো সে বিষয়ে আমরা ইতিহাস তুলে ধরি..........
বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্নিত আছে,হযরত আবু হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত,,রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমার ইন্তেকালের পর নজদ হতে শয়তানের তীক্ষ্ণধারার দুটি শিং বের হবে।
উক্ত দুটি শিংয়ের মধ্যে আব্দুল ওহাব নজদীকে শয়তানের দ্বিতীয় শিং হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়।
এই ঘৃণিত ব্যক্তিটি আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু'র খেলাফতের এগারশত বছর পর আবির্ভূত হয়। বহু কালের প্রতিষ্ঠিত ইসলামের মুল কাঠামোতে এই ব্যক্তি প্রবল ঝাকুনি দেয়। সে সমগ্র আরব ভূখণ্ডে তোলপাড় ও ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে।।
তার কুফরি মতবাদগুলো ছিলঃ-----
(এক)-প্রিয় নবীজী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওজা শরীফ জিয়ারত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।যে ব্যক্তি এই নিষেধ অমান্য করবে,তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।
তার হুকুম অমান্য করায় লোক মারফত জিয়ারতকারীর মাথা ও দাঁড়ি মুড়ায়ে দেয়।।
(দুই)- আযানের মধ্যে মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বাক্য উচ্চারণ করা যেনার অপেক্ষা বড় অপরাধ।তার বাসস্থান সংলগ্ন এক মসজিদ থেকে আযানের সময় উক্ত বাক্য উচ্চারণের কারণে মুয়াজ্জীনকে ধরে এনে প্রকাশ্যে তার শিরোচ্ছেদ করা হয়।
(তিন)-কোরআন বুঝার জন্য কোন তাফসীর কিতাবের প্রয়োজন নাই,,যে যার মতো কুরআনের ব্যাখ্যা করতে পারবে। উক্ত ঘোষণার পর তার নেতৃত্বে ফিকাহ্ তাফসীর ও হাদীস গ্রন্থসমূহ পুড়িয়ে দেয়া হয়।
(চার)-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মরে মাটির সাথে মিশে গেছেন, কাজেই তাকে কেউ দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে না, ইহা সকলের জন্য নিষিদ্ধ।
(পাঁচ)-চার মাযাহাব ইমাম চার তরিকা ইমাম কিছুই নয়। তাদের মাজহাব ও আর্দশ বাতিল।কেননা তাঁরা দিশেহারা ছিলেন।ওই ইমাম এর অনুসারীরা কাফের ও মুশরিক।
(ছয়)- হযরত মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন ডাক পিয়নের মত।
(সাত)- হযরত মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে যত মুশরিক বিভিন্ন যুদ্ধে শহীদ হয়েছে,আল্লাহ বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তারা সবাই জান্নাতে যাবে।
(আট)- যারা ওহাবী আকিদায় বিশ্বাসী হবে না, তাদের মাল সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া ও তাদের হত্যা করা জায়েজ হবে।
(নয়)-ওহাবী আকিদায় অনুপ্রবেশের ধারা ছিল এইঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আমি এতদিন কাফের ছিলাম এবং আমার মাতা পিতা /দাদা দাদী সকলে কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
(দশ)-আজ হতে আর কেউ আজান ও নামাজের শেষে দোয়া করবে না।
(এগার)-আওলিয়া কেরামের মাজারগুলো ভেঙে তদস্থলে পায়খানা নির্মাণ করা শ্রেয়।
নজদীরা উক্ত আকিদার বাস্তবায়নের জন্য এহসা প্রদেশের পবিত্র মাজারগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। (নাউযুবিল্লাহ)
ফতোয়াই “শামী, ইশয়াতে হক্ব, ওহাবীদের ইতিহাস, ওহাবীদের উৎপত্তি, সাইফুল মাযহাব, মাযহাব কি ও কেন, সাইফুল জাব্বার” ইত্যাদি কিতাবে মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর পরিচয় সম্পর্কে এইভাবে বর্ণিত আছে-
আব্দুল ওহাব নজদীর পরিচিত ------
ইবনে তাইমিয়ার ইন্তেকালের পরে তার মতবাদ প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নামে একজন আবির্ভূত হয়ে ইবনে তাই মিয়ার সেই ছায়ে ঢাকা আগুনকে আবার উন্মোচন করেন। মূলতঃ ওহাবী মতবাদের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটায় এই মুহাম্মমদ বিন আব্দুল ওহাব।আর তারই নাম অনুসারে সৃষ্টি হয় ওহাবী মতবাদ। আব্দুল ওহাব নজদীর পরিচয় নিম্নে দেওয়া হলঃ
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী ১৭০৩ সাল মোতাবেক ১১১৪ হিজরিতে সৌদি আরবের নজদ(রিয়াদ) নগরীতে জম্নগ্রহন করে।তার পিতা আব্দুল ওহাব উয়াইনা শহরের কাজী ছিলেন।প্রথমে তার পিতার নিকট এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমন করে ধর্মীয় ঞ্জান অর্জন করে এবং সমাজে একজন তথাকথিত আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদি ওহাবি মতবাদ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম সৌদি আরবের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।
লেখাপড়া শেষ করে নিজের বাড়ী ফিরে তিনি সলফে-সালেহীনের মতাদর্শের বিরোধিতা শুরু করে।শত শত বৎসরের প্রাচীন ও পবিত্র ইসলামিক নিদর্শন তথা অসংখ্য অসংখ্য নবী আলাইহিমুস সালামগনের মাযার,সাহাবায়ে কেরামগনের মাযার ও মুজাহিদদের অসংখ্য স্মৃতি সৌধের প্রতি সাধারণ মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দেখে তার সহ্য হয় নাই। সলফে-সালেহিনের চিত্র আদর্শ তথা শত শত বৎসরেরে প্রাচীন ও পবিত্র ইসলামী নিদর্শনগুলোকে তিনি বিদায়াত,শিরক আখ্যায়িত করে সর্বপ্রথম ইসলাম ও আশেকে রাসুল ও আশেকে ওলীদের মাথায় আঘাত হানে। ফলে তার পিতা আব্দুল ওহাব স্থানীয় মুসলিম জনসাধারনের ও উলামায়ে কেরামের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জোয়ারে উয়াইনা শহর থেকে পালিয়ে গিয়ে তিনি বসরায় আত্নগোপন করেন। কিছুদিন পর বসরাবাসি তার পরিচয় জানতে পেরে তাকে অপমান করে বসরা থেকে বের করে দেন। অগত্যা পিতার নিকট আশ্রয় নেয়। পিতার মৃত্যুর পর আবার আগের পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ শুরু করে। স্থানীয় মুসলিম জনসাধারন তার ইসলাম বিরোধী জঘন্য কর্মকান্ডের বিরুদ্বে সোচ্চার হলে সে অগত্যা উয়াইয় পালিয়ে যায়।উয়াইনার আমীর উসমান ইবনে আহম্মদ ইবনে মুয়াম্মার তাকে আশ্রয় দিয়ে জামাতারুপে গ্রহন করে। অতঃপর উক্ত সুযোগে সদ্ব্যবহার করে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব সক্রিয় ও ব্যাপকভাবে সাহাবায়ে কেরামের মাযার,আম্বিয়ায়ে কেরামের মাযার ও বহু শহীদগনের ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র স্থাপনাগুলো নিধন যজ্ঞে মেতে উঠে। জুবাইলা নামক স্থানে হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর সহোদর ভাই হযরত যায়েদ ইবনে খাত্তাব (রাঃ)নামানুসারে একটি সুউচ্চু মিনার স্বৃতি সৌধ হিসেবে ১২শত বৎসর পর্যন্ত দন্ডায়মান ছিল। মিথ্যা নবী দাবিদার মুসায়লামার বিরুদ্বে জিহাদে শহিদ হওয়াতে তার স্মারক হিসাবেই মুসলিমগন ইহা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু উক্ত মিনারখানাও ওহাবীদের রোষানল থেকে রক্ষাপেল না। জুবাইলার মুসলিম জনতা যুদ্ধ ঘোষনা করেও ইহা রক্ষা করতে পারেনি।
উয়াইনায় ইসলাম বিরোধী ও জঘন্য ধ্বংসলীলায় বিক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত হয়ে বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ উসমানকে তীব্র হুমকি দেয় ও এ সমস্ত ধ্বংসলীলা বন্ধের জন্য আহব্বান জানান। “এহসা”-এর গভর্নর উসমানকে চরমপত্র দেয়। ফলে উসমানের টনক নড়ে। মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাবকে নির্জন মরুভূমিতে নিয়ে হত্যা করে ফিরে আসার জন্য তিনি তার কতিপয় অশ্বারোহী জল্লাতকে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা তাকে হত্যা না করে ফেলে দিয়ে চলে আসেন। ফলে তিনি প্রানে বেচে যান। পরে “দিরইয়া” নামক স্থানে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমানের গৃহে আশ্র্য় নেন। এখান থেকেই মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাবের জিবনের সবচেয়ে বড় উত্থানের অভ্যুদয় ঘটে। নইলে হয়ত এ ব্যক্তিটি ইসলামের এতটা ক্ষতি করতে পারতো না। “দিরইয়া” এর কতিপয় অনুসারিদের পরামর্শে সু-চতুর মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী অত্যন্ত কৌশলে তথাকার বাদশা ইবনে সউদের স্ত্রীর মাধ্যমে বাদশা সউদকে বশ করে ফেলেন। এবং ক্রমান্ময়ের নিজের একজন খাঁটী অনুচর বানিয়ে ফেলেন। নিজের কন্যকে বাদশা ইবনে সউদের নিকট বিবাহ দিয়ে তাকে জামাই বানিয়ে নেন।তার একান্ত সহযোগিতায় ও আশ্রয়ের ফলেই তথাকার আরবে ওহাবী তথা ইসলাম নস্যাৎকারী আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং শত শত বৎসরের প্রাচীন ও পবিত্র ইসলামী ঐতিহ্যগুলো মুছে দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে সলফে-সালেহীনের মতাদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে একটি প্রলয়ংকারী গোমরাহির দিকে টেনে নিয়ে যায়।
ইবনে সউদের নামানুসারে আধুনিক আরবের নাম সৌদি আরব। বর্তমানে সৌদি রাজবংশই ওহাবী মতবাদের প্রধান পৃষ্টপোষক। আজ পর্যন্ত সৌদি আরব ওহাবী মতবাদের প্রধান ও কেন্দ্রীয় পৃষ্টপোষক হিসেবে কাজ করছে। তাই আজকের আরবে গিয়ে ১৪ শত বছরের পূর্বেকার প্রকৃত ইসলামকে উপলব্ধি করার কোন উপাই নেই।নেই জান্নাতুল বাকির সুরক্ষিত ও সুচিত্রতা হাজার হাজার সাহাবয়ে কেরামের মাজারের গম্বুজ ও মিনারের সেই সুসভিত দৃশ্য নেই ইসলামি ঐতিহ্য সুলিত স্থাপত্য।সব কিছু মুছে দিয়ে তারা ইসলামি ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দেয়। তার মৃত্যু হয় ১২০৬ হিজরিতে ৯২ বছর বয়সে।বর্তমানে সৌদি আরবসহ উপমহাদেশের অঞ্চলে তার অনুসারিদের প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হয়।তিনিই ওহাবি মতবাদের স্থাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা।
Reference:তারিখে ফযিলাতুশ শেখ সুলতান আল ওয়ালিদ বিন তা'লাল আসসাওদ ওয়া মুলকিয়্যাতে আরব-পৃষ্টা-19-39 দেখুন৷
শয়তানের শিং আব্দুল ওহাব নজদীর মতাদর্শ যে কুফরি তা নিম্নের সহীহ হাদীছ ও ফিকাহ-উসুলের কিতাব দ্বারা প্রমাণিতঃ
ওহাবী কারা? শরহে বেকায়া নামক গ্রন্থের ২য় জিলদের ২৭২পৃঃ ৯ নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ-
ﻭﻫﺎﺑﻲ ﺍﻱ ﻣﻨﺴﻮﺏ ﺍﻟﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪﺍﻟﻮﻫﺎﺏ ﺍﻟﻨﺠﺪﻱ .
অর্থাৎ,ওহাবী বলতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব নজদীর ভ্রান্ত আকিদার সাথে সম্পর্কিত লোকদেরকে ওহাবী বলে। নূরুলআনওয়ার নামক গ্রন্থের ২৪৭ পৃঃ ১৩ নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻛﺎﻟﻮﻫﺎﺑﻲ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻟﻠﺸﻔﺎﻋﺔ .
অর্থাৎ,ওহাবী একটি বাতেল দল, যারা শাফায়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকার করে থাকে। Muhammad bin Abdul ohab Nazdi was a Scandal disbeliever.We should avoid him.His Character was the most abjected than the four Footed Animals.ISIS Jonggi Groups have been created by Nazdi.We want to save the holy Macca and the holy Madina from the Ohabi dominion.The Almighty Allah is the sufficient for us for the guiding all for Ahle Sunnat wal Jamawat.

ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺯْﻫَﺮُ ﺑْﻦُ ﺳَﻌْﺪٍ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﻮْﻥٍ، ﻋَﻦْ ﻧَﺎﻓِﻊٍ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ، ﻗَﺎﻝَ ﺫَﻛَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺷَﺄْﻣِﻨَﺎ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﻤَﻨِﻨَﺎ . ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻭَﻓِﻲ ﻧَﺠْﺪِﻧَﺎ . ﻗَﺎﻝَ " ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺷَﺄْﻣِﻨَﺎ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﻤَﻨِﻨَﺎ . ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻓِﻲ ﻧَﺠْﺪِﻧَﺎ ﻓَﺄَﻇُﻨُّﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺜَﺔَ " ﻫُﻨَﺎﻙَ ﺍﻟﺰَّﻻَﺯِﻝُ ﻭَﺍﻟْﻔِﺘَﻦُ، ﻭَﺑِﻬَﺎ ﻳَﻄْﻠُﻊُ ﻗَﺮْﻥُ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥ .
Narrated Ibn Umar:The Prophet (Peace be upon him ) said, O Allah! Bestow Your blessings on our Sham! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.The People said, And also on our Najd.He said, O Allah! Bestow Your blessings on our Sham (north)! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.The people said, O Allah's Apostle! And also on our Najd. I think the third time the Prophet(Peace be upon him ) said,There (in Najd) is the place of Earthquakes and afflictions and from there comes out the side of the head of Satan. Sahih Bukhari (Afflictions and the End of the World) (Reference:Sahih al-Bukhari 7094 In-book reference : Book 92, Hadith 45).
ﻻ ﺗﺠﺘﻤﻊ ﺍﻣﺘﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻀﻼﻟﺔ . ﻣﺸﻜﻮﺓ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ . ﻫﻨﻠﻚ ﺍﻟﺰﻻﺯﻝ ﻭﺍﻟﻔﺘﻦ ﻭﺑﻬﺎ ﻳﻄﻠﻊ ﻗﺮﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ . ﻣﺸﻜﻮﺓ ﺻـ 582 ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ ﻛﻼﺏ ﺍﻟﻨﺎﺭ . ﻣﺸﻜﻮﺓﺻـ 309 ﺣﺎﺷﻴﺔ 2. ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺍﺧﺎﻑ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﻛﻞ ﻣﻨﺎﻓﻖ ﻳﺘﻜﻼﻡ ﺑﺎ ﻟﺤﻜﻤﺔ ﻭﻳﻌﻤﻞ ﺑﺎ ﺍﻟﺠﻮﺭ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻣﺸﻜﻮﺓ ﺻـ 467 .
লিখিতং
{মুফতি শাইখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট}

Popular Posts