শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য একটি গুরুতর সংকেত। গবেষণা ও পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা পরিচিতদের দ্বারাই নিপীড়নের শিকার হয়। তাই শুধুমাত্র অপরিচিতদের থেকে নয়, বরং নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পরিচিতদের দ্বারাই শিশুরা বেশি নিপীড়নের শিকার
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা তাদের পরিচিতজন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা RAINN-এর তথ্যমতে, শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের প্রায় ৯৩% ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পরিচিত। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি একই রকম।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতি ১০টি যৌন নির্যাতনের ঘটনায় প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুর আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত কেউ। এমনকি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা, যাদের কাছে শিশুদের নিরাপদ ভাবা হয়, তারাই অনেক সময় এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত আট বছরে প্রায় ৩,৪৩৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩৯ জনের বয়স ছিল ছয় বছরের কম। ইউনিসেফের গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রতি আটজনে একজন নারী ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ছেলে শিশুরাও এই সহিংসতা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৩৬টি ছেলে শিশুকে ধর্ষণ ও তিনটিকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
শিশু ধর্ষণের কারণ ও প্রতিরোধের উপায়
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতির কারণে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা বাড়ছে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
- আইনের কঠোর প্রয়োগ: এসিড সন্ত্রাস রোধে যেভাবে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেভাবেই শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- অভিভাবকদের সচেতনতা: বাবা-মায়েরা যেন শিশুদের গতিবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
- শিশুদের যৌন শিক্ষা: শিশুদের শেখাতে হবে কোন স্পর্শ নিরাপদ আর কোনটা বিপজ্জনক।
- সামাজিক প্রতিরোধ: পরিবার, স্কুল এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যৎ
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই সামাজিক ব্যাধি রোধ করা সম্ভব।
📰 নিত্যনতুন আপডেটস 📲
প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ,
তথ্য-প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন,
এবং বর্তমান বিশ্বের মুহূর্তপ্রধান ঘটনাপ্রবাহ
সরাসরি পেতে এখনই যোগ দিন!
✅ বিনামূল্যে আপডেট নোটিফিকেশন
🔔 সর্বপ্রথম তথ্য পেতে আজই যুক্ত হোন
⚠️ গ্রুপ রুলস মেনে চলুন
0 মন্তব্যসমূহ