Recent post

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

প্রাকৃতিক উপায়ে সাপ তাড়ানোর উপায়



সাপের প্রজাতি:
বাংলাদেশে প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ আছে। তবে সব প্রজাতিই বিষাক্ত নয়। মাত্র ২৭ টি প্রজাতি বিষধর বলে জানা যায়।
 যেহেতু সব সাপই বিষাক্ত নয় তাই কামড়ালে ভীত হওয়া যাবে না। 
ডাক্তারদের মতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিষ ছড়ানো বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে পারলে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকেও রোগীকে বাঁচানো যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ৮৩ হাজার লোক সাপের দংশনের শিকার হন।যার মাঝে ১১ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।



সাপ কামড়ালে করণীয়


চলুন জানা যাক প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো:

• সাপে কামড়ানো রোগীকে সাপ থেকে দূরে সরিয়ে নিবেন এবং তাকে সাহস দিবেন।

• সাপটি দেখতে পেলে তা কোন প্রজাতির তা চিনতে চেষ্টা করতে পারেন।

• আক্রান্ত স্থানটি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। গোবর লাগাবেন না।

• কামড়ের স্থানে বা কাছে কোন গহনা পড়া থাকলে তা খুলে ফেলুন।

• জুতা পড়া থাকলে তা খুলে দিবেন। কাপড় ঢিলেঢালাভাবে পড়ান।

• কামড়ের স্থান থেকে কিছুটা উপর বেঁধে দিন। গজ বা দঁড়ি না থাকলে গাছের বাকল, কাগজ, ব্যাগের ফিতা ইত্যাদি দিয়েই বাঁধন দিন। এরপর দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিন। বাঁধন খুবই শক্ত করা যাবে না।

• রোগীকে বা আক্রান্ত অঙ্গটিকে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না।

• রোগীকে হাঁটতে দিবেন না। কারণ এতে মাংসপেশীর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

• রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসপিরিন বা কোন ব্যথানাশক ঔষধ দিবেন না।

• মুখ দিয়ে বিষ টেনে তোলার চেষ্টা করবেন না। এটা সিনেমায় দেখানো একটি ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। এতে স্নায়ু ও রক্তনালীসমূহের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া মুখে থাকা জীবাণুর সংক্রমন ঘটতে পারে।



সাপ তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়:


বিশেষ কিছু ঘরোয়া ও বৈজ্ঞানিক উপায় অবলম্বন করলে সাপ ও কীটপতঙ্গ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু এই প্রতিরোধ প্রসঙ্গে অনেকেরই ধারণা খুব কম। তাই দেখে নিন, এই বর্ষায় পোকামাকড় ও সাপখোপের হাত থেকে বাঁচতে কি করবেন।

১. বর্ষা তো বটেই, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন সারা বছরই। তাতে বর্ষায় পরিশ্রমও কমবে, আর সারা বছর সুস্থ থাকবে বাড়ির পরিবেশ। বর্ষা এলে বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে দিন কার্বলিক অ্যাসিড । কাচের বোতলে অ্যাসিড রেখে বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিন। দেখবেন, তা যেন শিশুদের নাগালের বাইরে থাকে। সাপ থাকলে তা অ্যাসিডের গন্ধে পালিয়ে যাবে।



২. আশপাশের আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। বাড়ির বাগানেও আগাছা জমতে দেবেন না। এমনিতেই এখন মশা ও কীটনাশক দূরীকরণে সরকারি কাজে বাধা দিলে জরিমানার কথাও ভাবছে বিভিন্ন পুরসভা।



৩. বাড়ির চারপাশে কোনও ডোবা বা অপরিষ্কার জলাশয় থাকলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। সরকারি স্তরে তা জানিয়ে সেই জলাশয় পরিষ্কার বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন। বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না একেবারেই।



৪. কার্বলিক অ্যাসিডের সঙ্গে বাড়ির চারপাশে ডিডিটি, মশা মারার তেল ও ব্লিচিং পাউডার ছড়ান নিয়ম মেনে। পুরকর্মী ছাড়া নিজেও এই দায়িত্ব নিতেই পারেন সহজে।




৫. বাড়িতে ইঁদুর বা ব্যাঙের হাজিরা থাকলে, সাপ বেশি আসে। তা তাড়ানোর ব্যবস্থা করুন আগে। চেষ্টা করুন, খুব ক্ষতি না করলে যে কোনও প্রাণীকেই না মেরে, স্রেফ তাড়াতে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও তা প্রয়োজন। সব চেয়ে ভাল, যদি এ সবের প্রবেশ আটকাতে পারেন। তার জন্য প্রতি দিন কাজ শেষে রান্নাঘর, বাথরুম ও বাড়ির অন্যান্য ঘরের নর্দমার মুখ আটকে রাখুন। বেশিরভাগ সময়ে এ সব দিয়েই ঢোকে ব্যাঙ-ইঁদুর।

৬. ঘরে যাতে সাপ ঢুকতে না পারে, সে জন্য খেয়াল রাখুন বাড়ির কোথাও কোনও ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে কি না। সে সব আগে বন্ধ করুন। এ ছাড়া বাড়ির চারপাশে সালফার পাউডার ছড়ান। এর গন্ধেও সাপ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারবে না।



৭. বাড়ির চারপাশে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে রাখুন। তাতে ঘরে পোকামাকড়-সাপখোপের উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবেন।




৮.বাড়ির আশপাশে গাছপাল্লা বড় হতে দেবেন না। নয়তো সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে।




৯. সাপ তাড়াতে বাড়ির চারপাশে সালফার পাউডার ছড়িয়ে রাখুন। এর গন্ধে সাপ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারবে না।




সম্পূর্ণ ভাবে দুর করতে চিটাগাং পেস্ট কন্ট্রোল-এ যোগাযোগ করতে পারেন। এতকিছু করেও যদি সফল না হন অথবা আপনার সময় না থাকে তবে যোগাযোগ করতে পারেন চিটাগাং পেস্ট কন্ট্রোল এর সাথে অথবা ০১৬৩৪৯০২২৩৫ নম্বরে।




পরিশেষে বাসার আঙ্গিনা পরিস্কার রাখুন যার কোন বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts